মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক ঐতিহাসিক রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত একতরফা ‘পাল্টা শুল্ক’ অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। এর ফলে হোয়াইট হাউজ ঘোষণা করেছে, জরুরি অবস্থা আইনের আওতায় আরোপিত সেই বিতর্কিত শুল্কগুলো আর কার্যকর থাকছে না। তবে স্বস্তির খবরের মাঝেই ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা বাংলাদেশের মতো রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এই রায়ের পর হোয়াইট হাউজ জানায়, এখন থেকে ওই শুল্ক আর সংগ্রহ করা হবে না।
কিন্তু আদালতের রায়ে দমে না গিয়ে ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ঘোষণা দেন, তিনি নতুন এক আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর সাময়িকভাবে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন>>ট্রাম্পের ‘একতরফা শুল্ক’ অবৈধ: মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়সুপ্রিম কোর্টকেও পাত্তা দিচ্ছেন না ট্রাম্প, নতুন শুল্কের ঘোষণা
নতুন শুল্ক স্থানীয় সময় আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বুধবার দুপুর ১২টা ১ মিনিট) থেকে কার্যকর হবে এবং প্রাথমিকভাবে ১৫০ দিনের জন্য প্রযোজ্য থাকবে। তবে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, কিছু খাদ্যপণ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও এরই মধ্যে আলাদা শুল্কাধীন পণ্যে এটি প্রযোজ্য হবে না।
শুল্ক কি তাহলে কমবে?হোয়াইট হাউজের সূত্রে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি জানিয়েছে, আদালতের রায় এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে কিছু দেশের ওপর আরোপিত শুল্কহার কমতে পারে। যেসব দেশ এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে বা আলোচনা চলমান, তারা এই সুবিধা পেতে পারে।
বিবিসির প্রতিবেদনেও একই তথ্য জানানো হয়েছে। হোয়াইট হাউজের একজন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, যুক্তরাজ্য, ভারত এবং ইইউসহ যেসব দেশ এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে, তাদের আগের নির্ধারিত শুল্কহারের পরিবর্তে এখন থেকে ধারা ১২২ এর অধীনে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক দিতে হবে।
হোয়াইট হাউজ আশা করছে, এসব দেশ চুক্তির আগের শর্তগুলো মেনে চলবে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল প্রত্যাশিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)’ স্বাক্ষরিত হয়। এতে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্কের হার ১ শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়।
আরও পড়ুন>>যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সই, শুল্ক কমেছে ১ শতাংশ১৯% পাল্টা শুল্ক ছাড়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পোশাকের নতুন সম্ভাবনা
আর আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যে মার্কিন শুল্ক ছিল ১৫ শতাংশ। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে শুল্কহার দাঁড়ায় ৩৪ শতাংশ।
তবে, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে কোনো শুল্ক দিতে হবে না। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত থাকবে।
১০ শতাংশ শুল্ক কি বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য?আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের নতুন এই ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক এমন দেশগুলোর ওপরও কার্যকর হবে যারা আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে। সেই অনুসারে বাংলাদেশও এই তালিকায় থাকার সম্ভাবনা প্রবল।
ট্রাম্প প্রশাসন যদি চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর ক্ষেত্রে আগের শুল্ক বাতিল করে কেবল এই নতুন ১০ শতাংশ ‘বেজলাইন’ বা বৈশ্বিক শুল্ক কার্যকর করে, তবে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে মোট শুল্কের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।
সূত্র: বিবিসি, সিএনবিসি, ডয়েচে ভেলেকেএএ/