নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় সুমাইয়া আহমেদ বিন্দু (২০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর করেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্বজনদের মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি রফাদফা হয় বলে জানা গেছে।
এর আগে রোববার সকালে উপজেলার ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় ডিকেএমসি নামক একটি প্রাইভেট হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। প্রসূতি সুমাইয়া আহমেদ বিন্দু নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পাড়াগাঁও মধ্যপাড়া এলাকার কাউসার আহমেদ জুয়েলের মেয়ে।
রোগীর স্বজনদের দাবি, ভুল চিকিৎসায় রোগী মারা গেছে। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শুয়ে থাকা অবস্থায় রোগীকে খাবার খাওয়ানোয় শ্বাসনালিতে খাবার ঢুকে এমনটি ঘটেছে।
মৃতের সজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুমাইয়া আহমেদ বিন্দু প্রসবব্যথা নিয়ে উপজেলার ডিকেএমসি নামক প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হন। সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার শেষে রোগীকে বেডে দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক প্রসূতিকে আইসিইউতে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে রোগীর স্বজনরা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। এ নিয়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ভিকটিমের বাবা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে মোটা অঙ্কের নগদ টাকার বিনিময়ে সমঝোতা হয় এবং বিষয়টি আপসি মীমাংসা হয়।
এ বিষয়ে সুমাইয়ার চাচা জাহিদ আমির বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভুল চিকিৎসার কারণে আমার ভাতিজির মৃত্যু হয়েছে। যেহেতু ভাতিজিকে আর ফিরে পাব না, তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি সমঝোতার ভিত্তিতে মীমাংসা শেষে ভাতিজির মরদেহ নিয়ে এসেছি।
ডিকেএমসি হাসপাতালের পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, অপারেশনের পর রোগীকে বেডে দেওয়া হয়। সেখানে শোয়া অবস্থায় রোগীকে তার স্বজনরা পানি ও রুটি খাওয়ান। শুয়ে থাকা অবস্থায় রুটি খাওয়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খাবার ফুসফুসে চলে গেছে। খাবার শ্বাসনালিতে চলে যাওয়ায় রোগীর অবস্থা সিরিয়াস হয়ে যায়। আমরা তৎক্ষণাৎ রোগীকে আইসিইউতে পাঠিয়ে দিই। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে প্রসূতির মৃত্যু হয়। এখানে চিকিৎসার কোনো ত্রুটি ছিল না। অসাবধানতাবশত খাবার খাওয়ানোর কারণেই এমনটি ঘটেছে।
ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মীমাংসায় গেলে আমরা চলে আসি।
নাজমুল হুদা/এফএ/জেআইএম