রংপুরে সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে লেবু-শসাসহ অধিকাংশ সবজির দাম। সেইসঙ্গে দাম কমেছে মুরগির। তবে দাম বেড়েছে রসুনের। অপরিবর্তিত রয়েছে ডিমসহ মাছ-মাংসের দাম।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রংপুর নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে প্রতিকেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০-৭০ টাকা।
এছাড়া লেবুর হালি ৫০-৬০ টাকা থেকে কমে ৩০-৪০ টাকা, চিকন বেগুন ৬০-৭০ টাকা থেকে কমে ৪৫-৫০ টাকা। গোল বেগুন ৭০-৮০ টাকা থেকে কমে ৫০-৬০ টাকা।
প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ১২০-১৪০ টাকা থেকে কমে ১০০-১২০ টাকা, পেঁয়াজ ৫৫-৬০ টাকা থেকে কমে ৪০-৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে টমেটো ৪০-৫০ টাকা থেকে কমে ৩৫-৪০ টাকা, গাজর ৩০-৪০ টাকা থেকে কমে ২৫-৩০ টাকা, মুলা গত সপ্তাহের মতো ২৫-৩০ টাকা, ফুলকপি ২০-২৫ টাকা, বাঁধাকপির পিস ১৫-২০ টাকা, চালকুমড়া (আকারভেদে) ৫০-৬০ টাকা, কাঁচকলার হালি ২৫-৩০ টাকা, দুধকুষি ৫০-৬০ টাকা, শিম ৩০-৩৫ টাকা, পেঁপে ৩০-৩৫ টাকা থেকে কমে ২৫-৩০ টাকা, বরবটি আগের মতো ৬০-৭০ টাকা, করলা ১৫০-১৬০ টাকা থেকে কমে ১৩০-১৪০ টাকা, লাউ (আকারভেদে) ৪০-৫০ টাকা থেকে কমে ৩০-৪০ টাকা, প্রতিকেজি ধনেপাতা গত সপ্তাহের মতো ৩০-৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০-৬০ টাকা, সব ধরনের শাকের আঁটি ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া গত সপ্তাহের মতোই ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অপরদিকে দেশি আদা গত সপ্তাহের মতো ১৪০-১৫০ টাকা, দেশি রসুন ১৪০-১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০-১৬০ টাকা, আমদানি করা রসুন আগের মতো ২২০-২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বাজারে কার্ডিনাল আলু গত সপ্তাহের মতো ১৫-২০ টাকা, সাদা আলু ২৫-৩০ টাকা, বগুড়ার লাল পাকড়ি আলু ২০-২৫ টাকা, শিল আলু ৩০-৩৫ টাকা এবং ঝাউ আলু ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সিটি বাজারের সবজি বিক্রেতা মিলন বলেন, রমজানের শুরুর তুলনায় আজ বেগুন, পেঁয়াজ, শসা, লেবুর দাম কমেছে। বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহ যথেষ্ট কিন্তু বিক্রি কম।
ওই বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা সামসুল আলম বলেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলে দাম বেড়ে যায়। বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজের আমদানি প্রচুর। কোনো ঘাটতি নেই।
এদিকে, মুরগি বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগি গত সপ্তাহের চেয়ে ১০-২০ টাকা কমে ১৭০-১৯০ টাকা, পাকিস্তানি সোনালী মুরগি ৩০০-৩২০ থেকে কমে ২৯০-৩০০ টাকা, পাকিস্তানি হাইব্রিডের দাম ২০ টাকা কমে ২৮০ টাকা এবং দেশি মুরগির দাম বেড়ে ৫৮০ থেকে ৬২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে গরুর মাংস অপরিবর্তিত ৭২০-৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে পোলট্রি মুরগির ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে গত সপ্তাহের মতো ৩৪-৩৫ টাকা।
মুলাটোল আমতলা বাজারের মুরগি বিক্রেতা আমির হোসেন বলেন, রোজার শুরুতে মুরগির চাহিদা বেড়ে গিয়েছিল। এখন সে তুলনায় কিছুটা কমে এসেছে। এ কারণে দামও কিছুটা কমেছে।
খুচরা বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল গত সপ্তাহের মতো ১৯৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৯০-২১০ টাকা, মসুর ডাল (চিকন) গত সপ্তাহের মতো ১৭০-১৮০ টাকা, মাঝারি ১০০-১১০ টাকা, মুগডাল ১৫০-১৬০ টাকা, বুটের ডাল ১১০-১২০ টাকা, খোলা চিনি ১০৫-১১০ টাকা থেকে কমে ১০০-১০৫ টাকা, ছোলাবুট ৯০-১০০ টাকা, প্যাকেট আটা ৫৫ টাকা, খোলা আটা ৪৫-৫০ টাকা এবং ময়দা ৬৫-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের মতোই স্বর্ণা (মোটা) ৪৮-৫০ টাকা, স্বর্ণা (চিকন) ৫৫-৬০ টাকা, বিআর২৮- ৬৫-৭০ টাকা, বিআর২৯- ৬০-৬৫ টাকা, জিরাশাইল ৭০-৭৫ টাকা, মিনিকেট ৮৫-৯০ এবং নাজিরশাইল ৮৫-৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে রুইমাছ ৩০০-৩৮০ টাকা, টেংরা ৪০০-৫৬০ টাকা, মৃগেল ২২০-২৫০ টাকা, কারপু ২৫০-২৬০ টাকা, মিনারকাপ ২৪০-২৮০ টাকা, পাবদা ৩০০-৩৫০ টাকা, পাঙাশ ১৫০-২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৫০, কাতল ৩০০-৫০০ টাকা, বাটা ১৮০-২৪০ টাকা, শিং ৩০০-৪০০ টাকা, সিলভার কার্প ১৮০-২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
জিতু কবীর/আরএইচ/জেআইএম