দেশজুড়ে

দামের বাগড়ায় বাজারের তালিকায় কাটছাঁট

বেসরকারি একটি ব্যাংকে চাকরি করা ইকবাল হোসেন নিয়মিত কলা কেনেন। তার মেয়ের প্রিয় খাবারের মধ্যে এটি একটি। সবশেষ গত সোমবার ১২টি (এক ডজন) কলা নেন ১০০ টাকায়। অথচ একই আকারের এক ডজন কলার দাম এই সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ২০০ টাকা চান দোকানি। পরে ইকবাল ৪টি (এক হালি) কলা ৬০ টাকা দিয়ে নেন।

স্বামী সৌদি আরবে থাকায় রহিমা খানমকে একাই বাজার করাসহ সংসার সামলাতে হয়। রমজানে বাজারে এসে তিনি দেখেন শুধু ফল নয়, মাছ, মোরগ, সবজির কম-বেশি দামই বেড়ে গেছে। এতে টাকায় টান পড়ায় বাড়ি থেকে আনা তালিকায় কাটছাঁট করতে হয়েছে তাকে।

প্রবাস ফেরত তাহেরকে বাড়ি থেকে সদাইয়ের তালিকা করে দেওয়া হয়। রুহ আফজা, খেজুরসহ অন্যসব পণ্যের হিসাব করে টাকা আনেন তিনি। কিন্তু বাজারে এসে দেখেন, বেশিরভাগ পণ্যেরই দাম বেড়েছে। বাড়ি থেকে করে আনা হিসাবের সঙ্গে টাকার মিল নেই। এজন্য কয়েকটা পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে নিয়েছেন।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) লক্ষ্মীপুর শহরের চক বাজার, ভক্তের গলি ও থানা রোডে বাজার করতে আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে রমজান ঘিরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কথা জানা গেছে। এজন্য টাকার টানে তারা তালিকায় কাটছাঁট করছেন। বিশেষ করে লেবু, কলা, খেজুর, ডালিম, শসা, বেগুন, কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে অনেক।

মাংস, কাঁচা সবজি ও ফল বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রমজানের তিন দিন আগে থেকেই ফল, মাছ ও মাংসের দাম বেড়ে গেছে। প্রতি কেজিতে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগি আর গরুর মাংসের চাহিদা বাড়ায় কেজিতে বেড়েছে ১০০ টাকা। লেবু, শসা, কাঁচামরিচ ছাড়া কাঁচা ও মুদি পণ্যের দাম অনেকটা স্বাভাবিক। বাজারে নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ ও পেঁয়াজ ৩৫ টাকা দরে।

পশ্চিম বাঞ্চানগর এলাকার সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালক জাকির হোসেন বলেন, যাদের টাকা-পয়সা বেশি, তারা একসঙ্গে রমজান মাসের বাজার করে। এতেই দাম বেড়ে যায়। আমাদের যা প্রয়োজন দিনে তাই কেনা হয়। এজন্য বেশি কেনার টেনশন নেই।

লক্ষ্মীপুর শহরের চক বাজারের ফল ব্যবসায়ী রিয়াজ বলেন, একসপ্তাহের ব্যবধানে ডালিমের কেজিতে ১০০-১৩০ টাকা। খেজুর কেজিতে বেড়েছে ১০০-২০০ টাকা। এছাড়া আপেল, কমলাসহ অন্যসব ফলের দাম কিছুটা বেড়েছে।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নুর হোসেন রুবেল জানান, ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত ও অতিরিক্ত মূল্যরোধে আমাদের অভিযান চলছে। এরই মধ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি-সংরক্ষণ, মশা-পোকা থাকা, হাইড্রোজ ব্যবহার, উৎপাদনের তারিখ উল্লেখ না করার মতো অনিয়ম পাওয়ায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।

কাজল কায়েস/এফএ/এএসএম