আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নড়াইল সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে বাবা-ছেলেসহ চারজন নিহতের ঘটনায় ছয়জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। তবে এ হত্যার ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটকরা হলেন তারাপুর গ্রামের আমিন শিকদারের ছেলে বনি শিকদার (৩৩), বড়কুলা গ্রামের মৃত লালন ফকিরের ছেলে হালিম ফকির (৬০), কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের তুজাম মোল্যার ছেলে তুফান মোল্যা (৩০), সদরের তারাপুর গ্রামের রুহুল মোল্যার ছেলে সদয় মোল্যা (৩৬), তৈয়ব শিকদারের ছেলে লাজুক ওরফে সূর্য শিকদার (৩২) ও সবুর মোল্যার ছেলে জসিম মোল্যা (৩০)।
এদিকে মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে নিহত খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন ও ভাতিজা ফেরদৌস শেখের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সাবেক চেয়ারম্যান খায়েরুজ্জামান খায়ের গ্রুপের সদস্য ওসিবুর মিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. রকিবুল হাসান বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তবে এখনো মামলা হয়নি। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এলাকার পরিস্থিতি সাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়েরুজ্জামান খায়ের গ্রুপ ও খলিল মোল্লার গ্রুপের লোকজনের মধ্যে এলাকার আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে সোমবার ভোরে সেহরির পর খায়ের গ্রুপের লোকজন খলিলের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালান। দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই খলিল গ্রপের তিনজন নিহত হন। পরে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হলে আরও একজন মারা যান।
নিহতরা হলেন বড়কুলা গ্রামের খলিল গ্রুপের খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন ও ভাতিজা ফেরদৌস শেখ এবং সাবেক চেয়ারম্যান খায়েরুজ্জামান খায়ের গ্রুপের সদস্য ওসিবুর মিয়া।
হাফিজুল নিলু/এসআর/এমএস