‘যারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে তাড়িয়েছে; তারাই সকল হাট-ঘাট খাবে। সে যে দলেরই হোক’—এমন বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিপন হোসেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার যদুবয়রা-পান্টি সড়কের চৌরঙ্গী বাজারের চৌরাস্তা মোড়ে তার অনুসারীদের উদ্দেশে এমন বক্তব্য দেন। এরপর রাতেই খণ্ড খণ্ড কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে স্বেচ্ছাসবক দল নেতা রিপনকে বলতে শোনা যায়, ‘রাজপথে আমরা এই হাসিনা ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরানোর জন্য সংসারের সমস্ত কাজ ফেলে রেখে ও জীবনকে বিসর্জন দিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। আজকে যে ছেলেগুলো এখানে উপস্থিত হয়েছে, তারাই অনেক দিন, অনেক রাত না খেয়ে পথে-প্রান্তরে ঘুরে বেরিয়েছে। তখন কিন্তু এই সকল ব্যবসায়ীরা কেউ ২০টি টাকা দেয় নাই। আর আপনারা সকল সুবিধা ভোগ করার জন্য পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। লজ্জা করার দরকার আপনাদের। আজকে এই আসনে মেহেদী আহমেদ রুমীকে (ধানের শীষের প্রার্থী) আপনারই ফেল করায় ছিলেন।’
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রিপন হোসেন আরও বলেন, ‘এই বাজারখেকো যেসব দালালেরা আছেন, আপনারা খুব সহজেই এই ছেলেদের অধিকারের জায়গা দখল করবেন না। আর যদি করেন এই ক্ষুধার্ত ছেলেরা আজ যদি বাজার-ঘাট না খেতে পারে, সরকারে লিজ দেবে। এসকল ছাত্ররা বাপের কাছ থেকে ভিক্ষা করে নিয়ে এসে হলেও বাজার লিজ নেবে। কিন্তু যখন আপনি ১০ টাকার জিনিস ৩০ টাকা দিয়ে কিনবেন, সেই সামর্থ্য এদের নেই (ছাত্র), এরা খেতেও পারবে না। কিন্তু এই অধিকার আপনাদের কে দেছে? আপনারা যদি দেশের জন্য কাজ করতেন, আন্দোলন-সংগ্রাম করতেন, রাজপথে যেতেন; বুঝতাম, আপনারা পাবেন। আপনাদের বাদ দিয়ে এসকল ছেলেরা খেতে চায়নি। আপনাদের সাথে করে রেখে খুব অল্প ইজারা দিয়ে এরা আপাতত জীবনটা বাঁচাবে।’
উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ভিডিওতে রিপনকে বলতে শোনা যায়, ‘সরকার, প্রশাসনকে উপেক্ষা করে যেহেতু তোমরা দেশকে স্বাধীন করতে পেরেছ, সেহেতু ওই সকল দালালদের প্রতিহত করে অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।’
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ভিডিওতে ওই নেতাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আজকে যেসকল ছাত্র নির্যাতিত, যেসকল আন্দোলনকারী ভাত পাচ্ছে না, যেসকল আন্দোলনকারী টাকার অভাবে চলতে পারছে না; আপনারা অবশ্যই এইসব ছাত্র ও দলপ্রেমীদের দেখে রাখবেন।’
স্বেচ্ছাসবক দল নেতা রিপন হোসেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আন্দোলনের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত ছিল, তারাই হাট-ঘাট খাবে; সে যে দলেরই হোক। তার অধিকার আছে খাওয়ার। আপনি খাবেন না? কারণ আপনি কোনো জায়গায় যাননি। কেউ যদি টাকার গরমে বাজার ডেকেও (ইজারা) আনেন, ওই বাজারে ঢুকলে পিঠের চামড়া তুলে দেয়া হবে’
বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার বিকেলে স্বেচ্ছাসবক দল নেতা রিপন হোসেন বলেন, ‘সম্প্রতি চৌরঙ্গী সাপ্তাহিক পেঁয়াজ হাটের ইজারার দরপত্রের আহ্বান করেছে প্রশাসন। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী টাকার গরমে পাঁচ লাখ টাকার হাট ১০ লাখ টাকা দিয়ে ইজারা নিতে চাচ্ছে। ফলে ছাত্র, যুবসমাজ ইজারা নিতে পারবে না। ওইসব ব্যবসায়ীদের সতর্ক করার জন্য ওই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তবে এখানে অন্যায় কিছু করা হয়নি।’
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুল হাকিম মাসুদ বলেন, ‘বিএনপি একটি গণতন্ত্রবাদী দল। কেউ যদি টেন্ডারে হাট-ঘাটের ইজারা পায়, তাহলে তারা এটা ভোগ করবে; সে যে দলের লোক হোক। এটা তার গণতান্ত্রিক অধিকার। যদিও তার বক্তব্য আমি এখনো শুনিনি। কেউ যদি এমন কোনো বক্তব্য দেন, এটা তার একান্তই ব্যক্তিগত কথা। বিএনপি এসব কখনো সমর্থন করেনি, আগামীতেও করবে না।’
আল-মামুন সাগর/এসআর/এমএস