# ব্যাংক উদ্ধার প্রক্রিয়া ব্যর্থ করতে অপপ্রচার চলছে
ব্যাংক একীভূতকরণ (মার্জার) ও দুর্বল ব্যাংক উদ্ধারের প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডকে ‘ষড়যন্ত্র’ এবং ‘অপপ্রচার’ বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, ৭৬ লাখ আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষায় সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩২ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে এবং এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, দেশের দুর্বল ব্যাংকগুলোকে স্থিতিশীল করতে নেওয়া উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত করতে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এরই মধ্যে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।
আহসান এইচ মনসুর বলেন, দুর্বল ব্যাংক পুনরুদ্ধার ও একীভূতকরণ প্রক্রিয়া ব্যর্থ করতে একটি কুচক্রী মহল সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গভর্নর। লাখো আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষায় সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা। দায়িত্বে এসেছি সেবা দিতে এবং ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করতে। এজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ (মার্জার) কোনো কর্মকর্তা বা স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের বিষয় নয়, এটি রাষ্ট্রীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে অপপ্রচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একটি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য শৃঙ্খলা বজায় রাখা অপরিহার্য।
কর্মকর্তাদের অপপ্রচার গ্রহণযোগ্য নয়বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে গভর্নর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তার অধিকার নেই সরকারি নীতিগত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার। এটি তাদের আওতাভুক্ত বিষয় নয়। যারা অপপ্রচার করেছেন তাদের বিরুদ্ধে শোকজ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শোকজের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে।
‘প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষা জরুরি’গভর্নর বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে হলে শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। চাকরি করবো কিন্তু প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মানবো না, এটা গ্রহণযোগ্য নয়। একটি ‘কুচক্রী মহল’ ব্যাংক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে ব্যর্থ করতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে ব্যাংকগুলো আবার আগের মালিকদের হাতে ফিরে যায়।
‘পদত্যাগ কোনো ইস্যু নয়’কর্মকর্তাদের আন্দোলন ও পদত্যাগের দাবির বিষয়ে গভর্নর বলেন, পদত্যাগ কোনো ইস্যু নয়। আমি এখানে চাকরি করতে আসিনি, সেবা দিতে এসেছি। প্রয়োজন হলে দুই সেকেন্ড সময় লাগবে না পদত্যাগ করতে। তবে আমরা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেব।
তিনি বলেন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাংলাদেশ ব্যাংকে সবসময় ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এটি নতুন কোনো বিষয় নয়। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও এ ধরনের নিয়োগ রয়েছে।
ইএআর/এমআইএইচএস