দেশজুড়ে

সমুদ্র উপকূল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ৯ ড্রেজারসহ আটক ১৩

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সমুদ্র উপকূল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ৯টি ড্রেজারসহ ১৩ জনকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নে এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় সমুদ্র উপকূল থেকে বালু উত্তোলন এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে কৃষিজমিতে বালু ভরাটের সব কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেন তিনি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ উপকূলের নির্দিষ্ট স্থান থেকে বালু উত্তোলনের সীমিত অনুমতি দিলেও সাগরের ভেতর থেকে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমতি নেই। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বন্দরের দেওয়া শর্ত ভঙ্গ করেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, সরেজমিনে গিয়ে বালু উত্তোলন ও জমি ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। খাস জমি যথাযথ বন্দোবস্ত ছাড়া ভরাটের কোনো সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট জমির শ্রেণি পরিবর্তন, খাস জমির পরিমাণ এবং নথিপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার কুমিরা, বাঁশবাড়িয়া, মুরাদপুর ও সৈয়দপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছিল। বিশেষ করে গত এক মাস ধরে বড় পাইপলাইনের মাধ্যমে সাগর থেকে বালু তুলে দুই ও তিন ফসলি উর্বর জমি ভরাট করা হচ্ছিল। এছাড়া সৈয়দপুর ইউনিয়নের পশ্চিম সৈয়দপুর সমুদ্র উপকূল, বাঁশবাড়িয়া নড়ালিয়া সড়কের শেষ প্রান্তের সাগর তীর, কুমিরা ইউনিয়নের আকিলপুর ও আলেকদিয়া ব্রিজ সংলগ্ন দক্ষিণ পাশ, বাড়বকুণ্ড সী বীচ, মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী সি বিচ, হাসনাবাদ ও ভাটের খীল এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে এ কার্যক্রম চলছিল।

সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জলদাস পাড়ার বাসিন্দা মৃদুল চন্দ্র দাস বলেন, সোনাইছড়ি ইউনিয়নের শীতলপুর থেকে সৈয়দপুর ইউনিয়নের বগাচতর পর্যন্ত শতাধিক ড্রেজার দিন-রাত সাগর থেকে বালু উত্তোলন করছে। এতে জেলেরা স্বাভাবিকভাবে মাছ আহরণ করতে পারছে না। শতাধিক মাছ ধরার জাল ছিঁড়ে ফেলেছে। ফলে অনেক জেলে সাময়িকভাবে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে বাধ্য হন এবং আর্থিক সংকটে পড়েন। প্রতিকার চেয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরের স্মারকলিপি দিয়েছেন।

এম মাঈন উদ্দিন/কেএইচকে/জেআইএম