নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬১ রানের বড় পরাজয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে শ্রীলঙ্কার। গ্রুপ পর্বে ভালো করলেও সুপার এইটে ইংল্যান্ডের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও বড় ব্যবধানে হেরে হতাশার বিদায় স্বাগতিকদের। দেশটির সাবেক অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা দলের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সতর্ক করে বলেছেন, আধুনিক ক্রিকেটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে শ্রীলঙ্কা ধীরে ধীরে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে।
টানা দুই পরাজয়ে সুপার এইটে শ্রীলঙ্কার এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে সবার আগে। ঘরের মাঠে আসর হওয়ায় দলটির সমর্থমকদের স্বপ্ন ছিল ২০১২ সালে নিজেদের মাঠে হারানো শিরোপা পুনরুদ্ধার করা।
দলের এমন পারফরম্যান্সে সমর্থকদের হতাশার কথা তুলে ধরেছেন কুমার সাঙ্গাকারাও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, ‘চারদিকে গভীর হতাশা। সমর্থকরা ভেঙে পড়েছেন, ক্ষুব্ধ ও হতাশ। খেলোয়াড়রাও খুব কষ্ট পাচ্ছে। আমি এমন ড্রেসিংরুমে ছিলাম, জানি এটা কতটা কঠিন। কিন্তু দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সঙ্গে এই দায়িত্ব জড়িত। এটি একদিকে বোঝা, অন্যদিকে বড় সম্মান।’
তিনি আরও বলেন, ‘সঠিক পথে ফিরতে হলে সব স্তরে অনেক কাজ করতে হবে। ক্রিকেট বিশ্ব খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একই কাজ বারবার করে ভিন্ন ফল আশা করা যায় না। আমরা মানিয়ে নিতে পারিনি, আর অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।’
ব্যাটিং ভরাডুবিতে সুপার এইটের দুই ম্যাচেই হারলো লঙ্কানরা। শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়-পরাজয় নিজেদের ভাগ্যে আর কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে অন্য দলের সেমিফাইনালের সমীকরণে প্রভাব রাখতে পারে।
শ্রীলঙ্কার সমস্যা কেবল একটি টুর্নামেন্টে সীমাবদ্ধ নয়। ২০১৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর টানা পাঁচটি আসরে তারা সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে। চলতি বছর জুড়ে ব্যাটিংয়ের অনিয়মিত পারফরম্যান্স এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে বড় ব্যবধানে হার তাদের দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। বিশেষ করে কলম্বোর স্পিন-সহায়ক উইকেটে কৌশলগত ভুল সিদ্ধান্ত গভীর কাঠামোগত সমস্যার ইঙ্গিত দিয়েছে।
দলের জন্য সাঙ্গাকারার স্পষ্ট বার্তা — আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দ্রুত পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে না পারলে শ্রীলঙ্কা পিছিয়ে পড়বে।
আইএন