অর্থনীতি

যমুনা অয়েলের ফতুল্লা ডিপোর সেই ‘ব্রাজিল বাড়ির টুটুল’ সাময়িক বরখাস্ত

ক্যান্টিন বয় থেকে যমুনা অয়েলের ফতুল্লা ডিপোর নিয়ন্ত্রক জয়নাল আবেদিন টুটুল ওরফে ‘ব্রাজিল বাড়ির টুটুল’কে অবশেষে সাময়িক বরখাস্ত করেছে যমুনা অয়েল কোম্পানি।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) কোম্পানির ডিজিএম (এইচআর) মোহাম্মদ হাসান ইমামের সই করা এক দাপ্তরিক আদেশে তাকে বরখাস্ত করা হয়। একই আদেশে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়।

জয়নাল আবেদিন ‍টুটুল ফতুল্লা ডিপোতে গেজার হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি ২০২৫ সালে যমুনা অয়েল কোম্পানি শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতিও নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন যমুনা অয়েল কোম্পানির ডিজিএম (এইচআর) মোহাম্মদ হাসান ইমাম।

বরখাস্ত আদেশে উল্লেখ করা হয়, কোম্পানি কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে আপনার বিরুদ্ধে নিম্নে উল্লেখিত অভিযোগ সমূহ পাওয়া যায়।

১. হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর থাকলেও ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর আপনি মাসে কেবল ২/১ বার ডিপোতে আসেন এবং একসঙ্গে হাজিরা খাতায় পূর্বের দিনগুলোর স্বাক্ষর দিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে।

২. গত ১২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩০ দিনের ছুটি ভোগ করার পর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি অফিস করে পুনরায় ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত আরও ৩০ দিনের বিশেষাধিকার ছুটির আবেদন করে এখন পর্যন্ত কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। কোম্পনির ছুটি গ্রহণ নীতিমালা অনুসারে ছুটি অনুমোদন হওয়ার পর আপনি ছুটি ভোগ করাতে পারেন। শুধু ছুটির দরখাস্ত দিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা ছুটি গ্রহণ নীতিমালার পরিপন্থি।

বরখাস্ত আদেশে আরও বলা হয়, উপরোক্ত অভিযোগ সমূহ বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (অদ্যাবধি সংশোধিত) এর ধারা ২৩ (৪) এর (ক), (ঘ) ও (চ) মোতাবেক গুরুতর অসদাচরণ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আপনার বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা এ পত্র প্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হলো।

আরও পড়ুনক্যান্টিন বয় থেকে ফতুল্লা ডিপোর নিয়ন্ত্রক ‘ব্রাজিল বাড়ির টুটুল’ অটোমেশন সিস্টেম ‘অকেজো’, ট্যাংকে তেল রেখে চুরির ‘পরিকল্পনা’ 

এতে বলা হয়, এ অবস্থায় আপনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গুরুতর বিধায় আপনাকে কোম্পানির চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো, যা আপনার অনুপস্থিতির দিন থেকে কার্যকর হবে। সাময়িক বরখাস্তকালীন আপনাকে নিয়ম অনুযায়ী জীবিকা ভাতা দেওয়া হবে।

এর আগে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে জাগো নিউজে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ক্যান্টিন বয় থেকে ফতুল্লা ডিপোর নিয়ন্ত্রক ‘ব্রাজিল বাড়ির টুটুল’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, তেল কোম্পানিতে গেজার হলেন একজন তেল পরিমাপক। তামা কিংবা লোহার কাঠির কখনো যন্ত্রের মাধ্যমে তেলের পরিমাণ করেন গেজার। সেই গেজার পদে চাকরি পেয়েই রাতারাতি কোটিপতি বনে যান টুটুল। কয়েক বছরের ব্যবধানে হন শত কোটি টাকার মালিক। ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে নারায়ণগঞ্জের একটি বাড়ি সাড়া ফেলেছিল। ছয়তলা বাড়িটি মুড়ে দেওয়া হয়েছিল ব্রাজিলের পতাকার রঙে। বাড়িটি দেখতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশে দেশটির রাষ্ট্রদূত। যার মালিক এই টুটুল। কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের আমলে সরকারি দলের সুবিধা কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলেন বিশাল সম্পদ।

পাশাপাশি যমুনা অয়েলের সিবিএ কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব পালন করে ফতুল্লা ডিপোর পুরো নিয়ন্ত্রক বনে যান টুটুল। তার প্রভাবে যাবতীয় অন্যায় দেখেও না দেখার ভান করেন স্বয়ং প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থেকে বিপিসির চেয়ারম্যানও। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর টুটুল গাঢাকা দেন। কিন্তু পুরোনো প্রভাবের জেরে কর্মস্থলে না গিয়েও নিয়মিত হাজিরা চলে টুটুলের।

ফতুল্লা ডিপোতে সোয়া লাখ লিটার তেল গায়েবের ঘটনায়ও উঠে আসে জয়নাল আবেদীন টুটুলের নাম। নিজে কর্মস্থলে হাজির না হয়েও পুরো ডিপোর নিয়ন্ত্রণ থাকে টুটুলের হাতে। ডিপোতে তার রয়েছে নিজস্ব অফিস। যেখান থেকে সিসিটিভির মাধ্যমে পুরো ডিপোর নিয়ন্ত্রণ করেন টুটুল। অভিযোগ উঠেছে, ফতুল্লা ডিপোতে অনিয়মের বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে বিপিসির অনীহা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী টুটুল বড় বাধা।

এমডিআইএইচ/কেএসআর