রাজধানীর হাজারীবাগ থানার রায়েরবাজারে বাসার সামনে স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার আগে ফোন করে ডেকে নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে ওই কিশোরীকে একসঙ্গে হাঁটতে ও স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে দেখা গেছে।
এ ঘটনায় গ্রেফতারের পর অভিযুক্ত যুবক সিয়াম দাবি করেছে- ওই কিশোরীর সঙ্গে তার প্রেমঘটিত বিরোধ ছিল। তবে পারিপার্শ্বিক ঘটনা বিশ্লেষণে পুলিশ বলছে, তাদের মধ্যে প্রেম না থাকলেও ভালো সম্পর্ক ছিল।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম।
এর আগে গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে হাজারীবাগ থানার রায়েরবাজার এলাকায় বাসার সামনে শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি (১৪) নামের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এরপর এ ঘটনায় করা মামলায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে কলাবাগান এলাকার একটি বাসা থেকে একমাত্র আসামি সিয়ামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু, রক্তমাখা গেঞ্জি ও প্যান্ট জব্দ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডিসি মাসুদ আলম বলেন, হত্যকাণ্ডের পরপরই আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। ভিডিওতে কিশোরী বিন্তির সঙ্গে সিয়ামকে একসঙ্গে হাঁটতে ও কথা বলতে দেখা গেছে। কথাবার্তার একপর্যায়ে সিয়াম ছুরি দিয়ে বিন্তিকে পেছন থেকে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে। ছুরিকাঘাতের পর সিয়াম সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল। সেখানে অনেক মানুষ ছিল, কিন্তু কিছুক্ষণ পর সিয়াম নির্বিঘ্নে বাইকে করে চলে যায়।
আরও পড়ুনরাজধানীতে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে কিশোরী নিহত হাজারীবাগে কিশোরী হত্যাকাণ্ড: মূল সন্দেহভাজন সিয়াম আটক
সিয়ামকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে তিনি বলেন, মেয়েটার সঙ্গে সিয়াম একই স্কুলে পড়াশোনা করতো। সিয়াম দাবি করেছে- তাদের মধ্যে চার বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাঝখানে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। সে ধারণা করে, মেয়েটা অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে।
এ কারণে বিন্তিকে খুন করার জন্যই সে সঙ্গে ছুরি নিয়ে আসে। সে ওই এলাকায় গিয়ে মেয়েটাকে ফোন করে ডেকে নিয়ে কথা বলে। কথা বলার একপর্যায়ে সম্পর্ক রাখা না রাখা নিয়ে ঝগড়া চরম পর্যায়ে পৌঁছালে সে ছুরিকাঘাত করে।
সিয়াম ভেবেছে, তাকে আর পাত্তা দিচ্ছে না বা তার সঙ্গে আর থাকবে না। সেজন্য মেয়েটাকে সে রাখবে না ভেবেই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলেন মাসুদ আলম।
বিন্তির মা নাদিয়া ঘটনার পরপরই অভিযোগ করেছিলেন, সিয়াম নামে এক তরুণ বিন্তিকে কুপিয়ে পালিয়ে গেছে। সিয়াম তার মেয়েকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি মাসুদ বলেন, সিয়াম যদি মেয়েটাকে উত্ত্যক্ত করতো তাহলে ডাকলে তো মেয়েটার আসার কথা নয়। তারা একসঙ্গে হাঁটছিল, কথা বলছিল। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল কি না, মেয়েটা যেহেতু বেঁচে নেই তাই ক্রসচেক করতে পারছি না। তবে প্রেমের সম্পর্ক না থাকলেও তর্কের খাতিরে আমরা ধরে নিচ্ছি ভালো সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে আগে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল, শেষ পর্যন্ত অনিয়মিত যোগাযোগ ছিল।
সিয়ামের সঙ্গে কোনো মাদকের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে, তবে সে স্বীকার করেনি বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
টিটি/কেএসআর