*তৈরি হচ্ছে নীতিমালা * অগ্রাধিকার পাবে অর্জন, কার্যক্রম ও সম্ভাবনা * আপাতত মূল স্কোয়াড নিয়ে চিন্তা
নতুন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক দেশের খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে খেলোয়াড়দের আর্থিক নির্ভরতার ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। ক্রীড়াবিদ ভালো থাকলে ক্রীড়াঙ্গনও ভালো থাকবে। তার স্লোগান হচ্ছে-‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা।’
ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সাথে সভা করে প্রতিমন্ত্রী তার সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দিয়েছেন। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের আর্থিক সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ফেডারেশনগুলোকে এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই সাথে জমা দিতে বলা হয়েছে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের তালিকাও।
খেলাকে সৌখিনতা থেকে বের করে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বড় এই উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে কাজটি অনেক কঠিন। বিশেষ করে ৫৩ টি ফেডারেশনের জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সম্মানী দিতে বিশাল একটা বাজেটেরও প্রয়োজন হবে। এমন নিয়ম চালু করে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রশ্ন হচ্ছে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বেতন দিতে গিয়ে কোনো জটিলতা হবে কিনা। কারণ, অনেক ডিসিপ্লিনের জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। বেতন হিসেবে টাকা দিলে সেখানে আয়করের বিষয়ও থাকবে।
এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বৃহস্পতিবার জাগো নিউজকে বলেছেন, ‘পুরো বিষয়টি নিয়ে একটা নীতিমালা তৈরির কাজ আমরা শুরু করেছি। বেতন, সম্মানী, ভাতা যে নামেই হোক আমরা জাতীয় দলের ক্রীড়াবিদদের চুক্তিভিত্তিক আর্থিকভাবে সহযোগিতা করবো।’
দলীয় খেলা ছাড়া জাতীয় দলের খেলোয়াড় সংখ্যা নির্ধারিত থাকে না। দেশে অনেক খেলা আছে সারাবছর এক-দুইবার জাতীয় দল গঠন হয়। অনেক খেলা সক্রিয়, অনেক খেলা চলে নামমাত্র। সেই জায়গায় সমন্বয়েরও একটা বিষয় আছে। এখানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কথা পরিষ্কার, ‘আমরা দেখবো কোন খেলায় আমাদের আন্তর্জাতিকভাবে সাফল্য আছে, তাদের কার্যক্রম কেমন এবং সম্ভাবনা কেমন। সে বিষয়টি বিবেচনা করেই আমরা প্রাথমিকভাবে সম্মানী দেওয়ার বিষয়টি নির্ধারণ করবো।’
জাতীয় দলের কোন পর্যায় থেকে এই সম্মানী পাবেন? প্রাথমিকভাবে জাতীয় দলের ক্যাস্পে যাদের ডাকা হয় তারাও কি পাবেন? আমিনুল হক বলেছেন, ‘জাতীয় দল বলতে চূড়ান্ত দল। এই যেমন ফুটবলের ২৩ জনের স্কোয়াড। অন্য খেলাগুলোতেও চূড়ান্ত জাতীয় দলকে আমরা চুক্তির মাধ্যমে সম্মানীর আওতায় আনবো।’
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশের পরপরই পরিকল্পনা ও খেলোয়াড় তালিকা জমা দিয়েছে কয়েকটি ফেডারেশন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসান বলছিলেন, সাঁতার ও কাবাডিসহ কয়েকটি ফেডারেশন থেকে প্রতিবেদন ও তালিকা জমা পড়েছে। নীতিমালা প্রসঙ্গে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এই পরিচালক বলছিলেন, ‘আমরা নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছি। আজও (বৃহস্পতিবার) মন্ত্রণালয়ে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সবকিছু বিবেচনায় রেখেই আমরা একটা নীতিমালা তৈরি করবো। বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে।’
বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শাহিন বলছিলেন, ‘এসএ গেমসের জন্য আমাদের ক্যাম্প চলমান ছিল। আমরা ৩৬ জন খেলোয়াড় তালিকা জমা দিয়েছি। এখন ক্রীড়া পরিষদ হয়তো যাচাই-বাছাই করবে।’
বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন তাদের কর্মপরিকল্পনা ও খেলোয়াড় তালিকা জমা দিয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে বর্তমান সক্রিয় খেলোয়াড় হিসেবে নারী ও পুরুষ মিলিয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরি উল্লেখ করে এই ফেডারেশন ১৫০ জন খেলোয়াড়ের নাম দিয়েছে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ বলেছেন, ‘আমরা ক্যাটাগরি করে খেলোয়াড় তালিকা জমা দিয়েছি। আমাদের পাইপলাইনও শক্তিশালী রাখতে হবে।’
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম বলেছেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর আমরা প্রস্তাবনা তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছি। দুই-একদিনের মধ্যেই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে জমা দিয়ে দেবো।’
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান বলেছেন, তারা দ্রুত প্রস্তাবনা জমা দিয়ে দিচ্ছেন। বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে।’ বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিমল ঘোষ ভুলু বলেছেন, ‘ভলিবল দলীয় খেলা। আমরা ছেলে ও মেয়ে মিলে ৩০ জন খেলোয়াড়ের একটি তালিকা তৈরি করেছি। রোববার জমা দেবো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে।’ সরকারের এই উদ্যোগকে তিনি সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘এই উদ্যোগের কারণে খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে ঢোকার জন্য আগ্রহ বাড়বে।’
জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বেতন দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত আছে ফেডারেশন কর্মকর্তাদের। কেউ কেউ বলছেন কয়েকটি ক্যাটাগরির মাধ্যমে সম্মানী দিলে ভালো হবে। তাতে নিচের ক্যাটাগরির খেলোয়াড়রা শীর্ষ ক্যাটাগরিতে যাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করবেন। তবে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ক্যাটাগরি রাখবেন না ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
‘জাতীয় দলে খেলে যারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন সেখানে কোনো ক্যাটাগরি থাকবে না। সম্মানের এই জায়গায় ব্যবধান করা ঠিক হবে না। জাতীয় দলই হবে ক্রীড়াবিদদের লক্ষ্য। তা হলে সবাই জাতীয় দলে ঢোকার চেষ্টা করবেন। যখন যারা জাতীয় দলে থাকবেন, তখন তাদের সাথে চুক্তি করে এই সম্মানী দেওয়া হবে। আর সেই সম্মানীর পরিমাণ কী হবে, তা নীতিমালার মাধ্যমে ঠিক হবে’-বলেছেন আমিনুল হক।
জাতীয় দলে খেললে সম্মানী। সেই প্রক্রিয়াটা স্বচ্ছ থাকা জরুরি। এ বিষয়ে আপনার নির্দেশনা কী থাকবে? আমিনুল হক বলেছেন, ‘এখানে কোনো অস্বচ্ছ্বতার সুযোগ থাকবে না। আমি নিজে সবকিছু তদারকি করবো। আমরা ভালো একটা উদ্দেশ্য নিয়ে কাজটি করবো। সেই কাজে স্বচ্ছ্বতা ও জবাবদিহিতা অবশ্যই থাকতে হবে। আমরা ফেডারেশনগুলোকে তাদের প্রস্তাবনা দিতে বলেছি। এর মধ্যেই একটি নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছি। আমরা এমনভাবে খেলোয়াড়দের স্বাবলম্বী করতে চাই, যাতে তরুণরা জাতীয় দলে ঢোকার জন্য অনুপ্রণিত হয়।’
আরআই/এমএমআর