জলবায়ু পরিবর্তন ও পলি জমে কুড়িগ্রামের একসময়ের খরস্রোতা ধরলা, বারোমাসিয়া ও নীলকমল নদী এখন মৃতপ্রায়। তবে নদীর এই নাব্যতা সংকটই আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় কৃষকদের জন্য। নদীর ধূ-ধূ বালুচর এখন আর ধূসর নয়, বরং সেখানে দোল খাচ্ছে বোরো ধান, ভুট্টা আর তামাকের সবুজ চারা।
সরেজমিনে ফুলবাড়ী উপজেলায় দেখা গেছে, নদীর বুক চিরে কৃষকরা হাড়ভাঙা খাটুনিতে ফসল ফলিয়েছেন। একসময় যে ধরলার ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়েছিলেন অনেক কৃষক, এখন সেই নদীর পলিমাটিতেই বোরো চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন আলতাফ হোসেন ও মজিবর রহমানের মতো চাষিরা। তারা আশা করছেন, প্রতি বিঘায় ২৫ থেকে ২৮ মণ ধান ঘরে তুলবেন। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্য মূল্যের দাবি তাঁদের।
তবে নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন জেলে পরিবারগুলো। এক সময় এসব নদীতে দেশি প্রজাতির মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তারা। পানি কমে যাওয়ায় মাছের প্রাপ্যতা হ্রাস পেয়েছে, ফলে আয়-রোজগারও কমেছে।
স্থানীয় কৃষক আলতাফ হোসেন ও মজিবর রহমান জানান, এক সময় ধরলার ভাঙনে ঘরবাড়ি-জমি হারিয়েছেন অনেকেই। এখন সেই নদীর পলিমাটিতে বোরো চাষ করে তারা স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। প্রতি বিঘায় ২৫-২৮ মণ ধান পাওয়ার আশা করছেন তারা। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভালো দামের প্রত্যাশা কৃষকদের।
বারোমাসিয়া নদীর বুকে ভুট্টা চাষা করেছেন ওই এলাকার জ্যোতিন্দ্র নারায়ণ, আমজাদ হোসেন, রশিদ মিয়া, চান মিয়া ও আব্দুল মজিদ। তারা ভুট্টা চাষে এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন। অনুকূল আবহাওয়ায় ফলন ভালো হওয়ায় তাদের মুখে হাসি ফুটেছে।
একই এলাকার ইউপি সদস্য জমসেদ আলী জানান, প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে ধরলার বুকে বোরো, ভুট্টার চাষাবাদ করে আসছি। প্রতিবছরেই বোরো ও ভুট্টার ভালো ফলন হয়ে আসছে। আশা করছি এবছরও ভালো ফলন হবে।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. নিলুফা ইয়াছমিন জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ১০ হাজার ২০৫ হেক্টর, যার অধিকাংশই অর্জিত হয়েছে। নদী অববাহিকাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে বোরো ও ভুট্টার আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
রোকনুজ্জামান মানু/কেএইচকে/এএসএম