পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন শপিংমল ও বিপণিবিতানে ক্রেতার ভিড় বাড়ছে। প্রত্যেকটি দোকান ও ফ্যাশন হাউজে এসেছে নতুন নতুন কালেকশন। বিশেষ করে ইফতারের পর থেকে মানুষের সমাগম বাড়ছে শপিংমলগুলোতে। তবে ক্রেতারা বলছেন, এবার পোশাকের দাম তুলনামূলক চড়া।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে পল্লবী, মিরপুর ১০, ১১ ও ১২ এর বিভিন্ন শপিংমল ঘুরে দেখা যায়, শিশুদের পোশাকের চাহিদার পাশাপাশি মেয়েদের থ্রি-পিস, সালোয়ার কামিজ, আনস্টিচ লনের চাহিদা রয়েছে বাজারে।
ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভিড় এড়িয়ে চলার জন্য একটু আগেভাগেই পছন্দের পোশাক কিনতে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরছেন তারা। করছেন পছন্দসই কেনাকাটাও।
বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি আকর্ষণীয় পোশাকের পাশাপাশি নারী-তরুণীদের মধ্যে পছন্দের শীর্ষে রয়েছে নানারকম শাড়ি, কুর্তি, টপস, লেহেঙ্গা, গাউন সেট ও ভারী কাজের ড্রেস। এবার ফ্যাশনেবল ড্রেস এবং আরামদায়ক সুতি, কাতান, মসলিন পোশাকের চাহিদাও বেশি।
থ্রি-পিসসহ বিভিন্ন পোশাক মিলছে এক হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায়। ছেলে বাচ্চাদের শার্ট, পাঞ্জাবি, গেঞ্জির চাহিদা বেশি, আর মেয়ে বাচ্চাদের জন্য বাজারে মিলছে পার্টি ড্রেস, ফ্রক, টপসসহ নানা ধরনের পোশাক।
পছন্দের পোশাক দেখছেন ক্রেতারা/ছবি: জাগো নিউজ
পুরুষদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে শার্ট, টি-শার্ট, জিন্স, ট্রাউজার, পাঞ্জাবি, কুর্তা ইত্যাদি। বিভিন্ন ধরনের শার্ট ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা, পাঞ্জাবি দেড় হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা, গেঞ্জি ২০০ থেকে ২ হাজার টাকায় মিলছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
ক্রেতারা জানিয়েছেন, ভিড় এড়াতে রমজানের শুরুতেই কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন তারা। তবে পোশাকের দরদাম নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তারা জানান, এবারের পোশাকের দর কিছুটা বেশি।
আর বিক্রেতারা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার বেচাকেনা ভালো হবে বলে প্রত্যাশা তাদের। এবার ঈদ বাজারের প্রথম থেকেই ভালো সাড়া মিলছে। আগামী সপ্তাহ থেকে বিক্রি বাড়তে পারে। তবে আমদানি করা পোশাকের দর কিছুটা বেশি বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
তিন মেয়েকে নিয়ে মিরপুর-১২ নম্বরের সাফুরা ট্রেড সিটি মার্কেটে ঘুরছিলেন তাহমিনা আক্তার। তার হাতে আড়ংসহ কয়েকটি ফ্যাশন হাউজের ব্যাগ। এই গৃহিণী বলেন, শেষসময় পছন্দমতো পোশাক পাওয়া যায় না। ভিড় ও ধাক্কাধাক্কি তো আছেই। এ জন্য আগেভাগেই কেনাকাটা করছি। কয়েকটি জামা দেখেছি। পছন্দ করে কিনে ফেলবো।
শুক্রবার রাতে মিরপুর-৬ নম্বর মসজিদ মার্কেটে কথা হয় ব্যবসায়ী ইয়ামিন মোল্লার সঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে পাঞ্জাবি, পায়জামা, লুঙ্গি, গামছাসহ হোসিয়ারি পণ্য বিক্রি করেন তিনি।
জুতার দোকানে ক্রেতার ভিড়/ছবি: জাগো নিউজ
ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ইফতারের পর বেচাকেনা শুরু হচ্ছে। পাঞ্জাবিসহ অন্যান্য পোশাক ও বিক্রি হচ্ছে। তবে জমজমাট কেনাবেচা এখনো শুরু হয়নি। আরও ১০-১২ দিন লাগবে মার্কেট জমে উঠতে।
মিরপুর-১০ নম্বরের শাহ আলী মার্কেটে স্ত্রীর জন্য জামা কিনতে এসেছেন আবদুর রহমান। তিনি বলেন, দুটো থ্রিপিস কিনবো, কিন্তু বিক্রেতারা দাম বেশি বলছেন। গতবার যেগুলো দুই হাজার ছিল এবার সেগুলোর দাম চাওয়া হচ্ছে তিন হাজার টাকা।
দাম বাড়া প্রসঙ্গে মিরপুর শপিং কমপ্লেক্সের বিক্রেতা আবু আলী বলেন, দেশীয় পোশাকের দাম আগের মতোই আছে। ভারতীয় কিংবা পাকিস্তানি পোশাকের দাম একটু বেশি। ডলারের মূল্য বৃদ্ধি, আমদানি কম হওয়াসহ নানা কারণ তো আছেই।
এসএম/এমএমকে/বিএ