বিশ্বব্যাপী নানা সমস্যায় থাকা দেশগুলো থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপ-আমেরিকায় পাড়ি জমায়। অবৈধ অভিবাসনপথে তাদের এ যাত্রায় প্রাণহানির ঘটনা প্রায়শই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সংবাদের খোড়াক মিটায়। ২০২৫ সালে এমন অবৈধ পথে অভিবাসী হতে গিয়ে অন্তত ৭ হাজার ৬৬৭ জন অভিবাসী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, অভিবাসনপথে প্রাণহানি অব্যাহত থাকা একটি বৈশ্বিক ব্যর্থতা, যা আমরা স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিতে পারি না। এসব মৃত্যু অনিবার্য নয়।
২০২৪ সালে প্রায় ৯ হাজার ২০০ জনের প্রাণহানির তুলনায় ২০২৫ সালের সংখ্যা কিছুটা কম হলেও সংস্থাটি বলছে, এ হ্রাসের পেছনে বিপজ্জনক রুটে কমসংখ্যক যাত্রা। এর পেছনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে আমেরিকার কড়া সীমান্ত ব্যবস্থা এবং তথ্যসংগ্রহে সীমাবদ্ধতা ও তহবিল সংকট।
আরও প্রাণহানি ঠেকাতে মানবপাচার চক্র ভেঙে দেওয়া, নিরাপদ অভিবাসনপথ সম্প্রসারণ এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে আইওএম।সমুদ্রপথ এখনও সবচেয়ে প্রাণঘাতী রুটগুলোর একটি। ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগরে অন্তত ২ হাজার ১৮৫ জনের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছাতে আটলান্টিক রুটে মারা গেছেন ১ হাজার ২১৪ জন। অনেক জাহাজডুবির ঘটনা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২০২৬ সালের শুরুটাও বেশ উদ্বেগজনক। ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে ৬০৬ জন অভিবাসীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
এশিয়ায় ২০২৫ সালে ৩ হাজারের বেশি অভিবাসীর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে যা টানা তৃতীয় বছরের মতো এ অঞ্চলে সর্বোচ্চ। মূলত সংঘাত থেকে পালিয়ে যাওয়া আফগান নাগরিকদের কারণে এই সংখ্যা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পূর্বাঞ্চলীয় রুটেও মৃত্যুর হার বেড়েছে। ২০২৫ সালে এ রুটে ৯২২ জনের মৃত্যু হয়েছে যেখানে ২০২৪ সালে ছিল ৫৫৮ জন। আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এ রুটে নিহতদের প্রায় সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক।
আইওএম সতর্ক করেছে, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন পথ নিশ্চিত না করা গেলে বৈশ্বিক মানবিক সংকট আরও গভীর হবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
কেএম