দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে মেডিসিন ক্লাবের কমিটি নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এই ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা থেকে শুরু করে রাত ১টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের বাইরে, ভেতরে ও হাসাপাতালের জরুরী বিভাগে এই ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় আহত দুইজন নাহিদ হাসান ও সিফাত মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি রয়েছে। এছাড়া দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় কমিটি বাতিল করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, হাসাপাতালের পরিচালক, মেডিকেল কলেজর ছাত্র ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে মেডিসিন ক্লাবের কমিটি নিয়ে ছাত্রদের দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের অদূরে হাউজিং শপিং মলে দুই গ্রুপেই রাতের খাবার খেতে গিয়ে মেডিসিন ক্লাবের কমিটি নিয়ে ইন্টার্ন ডা. মো. ফারহান শাহরিয়ার গ্রুপ এবং সভাপতি নুরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক পাভেল গ্রুপের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে ৩২তম ব্যাচের সিফাত আহত হয়। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে ও হাসাপাতালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে এসে ফারহান শাহরিয়ার গ্রুপের সদস্যরা জরুরি বিভাগে ৩১তম ব্যাচের নাহিদ ইসলামকে দেখতে পেয়ে মারধর শুরু করে। তখন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. সেখ সাদেক আলী, হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান, হল সুপার প্রভাষক ডা. হাবিবুল্লাহ রাসেল হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাদের সামনেই মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থলে কোতয়ালী থানার বারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর নবী উপস্থিত হন। এ সময় হল সুপার প্রফেসর হাবিবুল্লাহ রাসেল লাঞ্ছিত হন।
ঘটনার সময় হাসপাতালের স্টাফ রুকাইয়া তাম্মানা ও আরেকজন ভিডিও করছিলেন। এই ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. সেখ সাদেক আলী, হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান এবং ওসি নুর নবী তাদের মোবাইল দুটি জব্দ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
এই ঘটনার জেরেই রাতে মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাতে নাহিদ হাসানের কক্ষে আগুন দিয়ে তার বই, খাতা, কাপড় সব পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
দিনাজপুর মেডিকেল কজে ছাত্র দলের সভাপতি নুরুজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক পাভেল জানান, দিনাজপুরে মেডিকেল কলেজের কয়েকজন ছাত্রদলের সদস্য হাউজিং শপিংমলে রাতের খাবার খেতে গিয়ে মেডিসিন ক্লাবের কমিটি নিয়ে আরেক ছাত্র ইন্টার্ন ডা. ফারহান শাহরিয়ারের সঙ্গে মেডিসিন ক্লাবের কমিটি নিয়ে কথাকাটাকাটি তৈরি হয়। এ সময় তারা ফারহানের সঙ্গে থাকা সিফাতকে মারধর করে আহত করে। এ নিয়ে ছাত্রদের মাঝে উত্তেজনা তৈরি হলে রাত ১২টার দিকে মেডিসিন ক্লাবের সভাপতি নাহিদ হাসানকে একা পেয়ে ছাত্ররা মারধর করে। এতে সে গুরুতর আহত হয়। তারা দুইজনেই হাসাপাতালে ভর্তি রয়েছে। ওই সময় জেলা ছাত্রদলের এক নেতার দ্বারা হল সুপার প্রফেসর হাবিবুল্লাহ রাসেল লাঞ্ছিত হন।
ইন্টার্ন ডাক্তার ফারহান শাহরিয়ার জানায়, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক জোর করে মেয়াদ শেষ না হলেও মেডিসিন ক্লাবের কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করতে চায়। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে তারা নাহিদ হাসানের ওপর হামলা করে। এতে সে আহত হয়ে হাসাপাতালে ভর্তি রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আব্দুল হালিম ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মারামারির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাসাপাতালের মেডিসন ক্লাব নিয়ে বিরোধের জের ধরেই মারামারি হয়েছে। কয়েকজন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ২ জন হাসাপাতালে ভর্তি রয়েছে। কেউ কোন মামলা বা লিখিত অভিযোগ করেনি।
এদিকে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সভাপতি নুর ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক পাভেল নেতৃত্বাধীন ছাত্রদল কমিটি বাতিল করা হয়েছে।
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. সেখ সাদেক আলী বলেন, মেডিসিন ক্লাব নিয়ে ছাত্রদলের মধ্যে কন্দল চলছিল তা আমার জানা ছিল না। এ নিয়ে দুই মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। দুইজন হাসাপাতালে ভর্তি হয়েছে। এই ঘটনার পর ছাত্রদলের কমিটি বাতিল করা হয়েছে।
এমদাদুল হক মিলন/এনএইচআর