জাতীয়

এবার উদীচীতে হামলার প্রতিবাদে বইমেলায় ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী

অমর একুশে বইমেলায় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ব্যতিক্রমী স্টল দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। স্টলটির সাজানো হয়েছে উদীচীতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের প্রেক্ষাপটে। যেখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে হামলায় ধ্বংসস্তূপের নানান চিত্র। 

রোববার (১ মার্চ) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে যায়, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে নজরুল মঞ্চের পেছনে এই স্টল বসিয়েছে উদীচী। স্টলে বই বিক্রির পাশাপাশি সাজসজ্জার মাধ্যমে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

স্টলটির উপরে উদীচীকে তছনছ করে দেওয়ার আহ্বান সম্বলিত একটি উক্তি লেখা রয়েছে। যেখানে লেখা আছে—‘আগামীকাল বাম শাহবাগী ছায়ানট উদীচীকে তছনছ করে দিতে হবে—জবি ছাত্রশিবির সেক্রেটারি, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫’।

স্টলের ভেতরে পোড়া হারমোনিয়াম, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত তবলা ও ছাই-লাগা নথিপত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। এসব উপকরণ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রীর অংশ বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

স্টলের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা জানান, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১৯ ডিসেম্বর রাজধানীর তোপখানা রোডে উদীচী কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে সংগঠনের বাদ্যযন্ত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দীর্ঘদিনের সংরক্ষিত দলিলপত্র পুড়ে যায়। মেলায় সেই পুড়ে যাওয়া সামগ্রীই প্রদর্শন করা হচ্ছে।

উদীচীর কর্মী অভিজিৎ পাল বলেন, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে প্রথমে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকার কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই ছায়ানট ভবনে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। পরদিন উদীচীর কার্যালয়েও হামলা চালিয়ে বই, ফোকাসলাইট, বাদ্যযন্ত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ৫৭ বছরের সংরক্ষিত আর্কাইভ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই এভাবে স্টল সাজানো হয়েছে।

স্টল পরিদর্শনে আসা একজন দর্শনার্থী বলেন, অন্যান্য স্টলের তুলনায় এটি আলাদা। তার মতে, উদীচীর কার্যালয়ে আগুন দেওয়া মানে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের ইতিহাসের ওপর আঘাত।

তিনি বলেন, উদীচী সবসময় শোষণের বিরুদ্ধে ও সাম্যের পক্ষে কথা বলেছে। এই হামলার মাধ্যমে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

এদিকে, প্রথম আলোর অগ্নিদগ্ধ ভবনে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে বিশিষ্ট শিল্পী মাহ্‌বুবুর রহমানের শিল্প প্রদর্শনী ‘আলো’। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে প্রথম আলো ভবনে হামলা করে ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়। এরপর ভবনটিতে আগুন দেওয়া হয়। অগ্নিদগ্ধ ভবনের পুড়ে যাওয়া সবকিছু নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে এই বিশেষ প্রদর্শনী।

এফএআর/এমকেআর