বাঁচা-মরার ম্যাচে যে কোনো লক্ষ্যই কঠিন। আর যদি সেটা হয় দুইশ ছুঁইছুঁই, তবে লক্ষ্য তাড়া করতে নামার আগেই নাগালের বাইরে চলে যায় ম্যাচ। কিন্তু দলটা যখন ভারত, তখন চাপটা প্রতিপক্ষের ওপরই। লক্ষ্য তাড়ায় বরাবরই দাপুটে তারা। সেটি আরেকবার প্রমাণ হলো সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটে। কঠিন ম্যাচকে তার ব্যাটেই সহজ করে ৫ উইকেটে জিতে সেমিফাইনালে পা রাখলো বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
সঞ্জু স্যামসনের সেঞ্চুরি করার সুযোগ থাকলেও সেটি হয়নি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৯৭ রানে। ইনিংসটি সাজান তিনি ১২ চার ও ৪ ছক্কায়। আগামী ৫ মার্চ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ভারত।
কলকাতায় লক্ষ্য ডিফেন্ড করতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা শুরুটা ভালোই করেছিল। পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট তুলে নেয় ভারতের। ৬ ওভার শেষে ৫৩ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। অভিষেক শর্মা ও ইশান কিষান দুজনেই আউট হন ১০ রান করে। আকিল ও হোল্ডার নেন উইকেট দুটি।
অন্য ওপেনার সঞ্জু স্যামসনের সঙ্গে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের জুটিতে যোগ হয় ৫৮ রান। এই জুটিতে ফিফটির দেখা পান সঞ্জু। তবে ১৮ রান করে সূর্য আউট হলে ভাঙে জুটি। উইকেট নেন শামার জোসেফ। ৯৯ রানে ৩ উইকেট হারায় ভারত।
সঞ্জু স্যামসন দাঁড়িয়ে থাকেন দলকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে। আরও একটি জুটি গড়েন। এবার তিলক ভার্মাকে নিয়ে যোগ করেন ৪২ রান। সেই জুটি ভেঙে আরও একটি উইকেট নেন হোল্ডার। ১৪১ রানে ৪ উইকেটের পতন হয়। ২৭ রান করে ফেরেন তিলক।
হার্দিক পান্ডিয়া নেমে ৩৮ রানের জুটি গড়ে সঙ্গ দেন সঞ্জুকে। ১৭৯ রানে পঞ্চম উইকেটের পতন হয় শামার জোসেফের বলে ১৮ রান করে হার্দিক বিদায় নিলে। জয় থেকে ভারত তখন ১৮ রান দূরে।
এই রান করতে কোনো কষ্ট হয়নি স্যামসন ও দুবের। ১২ চার ও ৪ ছক্কায় ৫০ বলে ৯৭ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন স্যামসন। দুবে অপরাজিত ছিলেন ৮ রানে। ৫ উইকেটের জয়ে সেমিফাইনালে পা রাখলো স্বাগতিকরা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুটি উইকেট পেয়েছেন শামার জোসেফ ও জেসন হোল্ডার। একটি উইকেট গেছে আকিল হোসেনের ঝুলিতে।
আরও পড়ুন‘সাকিব ইস্যু সমাধান হলে আমার জন্য অধিনায়কত্ব সহজ হবে’ সব ম্যাচ জিতেই সেমিতে দক্ষিণ আফ্রিকা
যে দল জিতবে সে দলই যাবে সেমিফাইনালে। এমন ম্যাচে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। প্রতিপক্ষ ভারত হলেও আগে ব্যাটিংয়ে নামে বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০ ওভার ব্যাটিং করে উইন্ডিজের বোর্ডে জমা হয় ৪ উইকেটে ১৯৫ রান। ভারতের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯৬ রানের।
রোববার (১ মার্চ) কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের আমন্ত্রণে ব্যাট করতে নেমে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালিয়ে এই সংগ্রহ দাঁড় করায় ক্যারিবিয়রা।
উদ্বোধনী জুটিতে ৬৮ রান যোগ করেন অধিনায়ক শাই হোপ ও রস্টন চেজ। বরুণ চক্রবর্তীর বলে হোপ ৩২ রান করে বোল্ড করলে ভাঙে জুটি। ১০০ পার হওয়ার পর ধাক্কা খায় উইন্ডিজ। ১০২ ও ১০৩ রানে জাসপ্রিত বুমরাহর ৩ বলে দুই শিকারে তৃতীয় উইকেট হারায় তারা। হেটমায়ার ২৭ ও ৪০ রান করে ফেরেন রস্টন চেজ।
তবে হেটমায়ারের আউট নিয়ে দেখা দেয় অসন্তুষ্টি। মাঠ ছাড়ার আগে তিনিও আপত্তি জানান। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হেটমায়ারের ছক্কার সংখ্যা ১৯। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটাই সর্বোচ্চ ছক্কা মারার রেকর্ড।
বোর্ডে আরও ১৬ রান যোগ হতে শেরফান রাদারফোর্ডকে শিকার করেন হার্দিক পান্ডিয়া। ৯ বলে ১৪ রান করে ফেরেন তিনি। উইন্ডিজের বোর্ডে তখন রান ৪ উইকেটে ১১৯।
এরপর আরকোনো উইকেট পড়েনি ক্যারিবিয়দের। অবিচ্ছিন্ন ৭৬ রানের জুটি গড়েন রভম্যান পাওয়েল ও জেসন হোল্ডার। ১৯ বলে ৩৪ করেন পাওয়েল আর ২২ বলে ৩৭ আসে হোল্ডারের ব্যাটে। দুজনেই ছিলেন অপরাজিত। দুজনে মিলে সমান ৫টি চার ও ছক্কা হাঁকান। শেষ পর্যন্ত বোর্ডে জমা হয় ১৯৫ রান।
ভারতের হয়ে দুই উইকেট পেয়েছেন বুমরাহ। বাকি দুটি বরুণ ও হার্দিক।
আইএন/কেএসআর