একাত্তরের এই দিন দেশের ইতিহাসে এক সন্ধিক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশক্রমে পূর্ব পাকিস্তানে কার্যত নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রতিফলিত হচ্ছিল। ঘরে ঘরে উড়ছিল দেশের মানচিত্রযুক্ত নতুন পতাকা।
বিক্ষোভে শহীদদের স্মরণে ও অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। প্রধান বিচারপতির বাসভবন এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সেও কালো পতাকা দুলছিল।
সরকারি ও আধা সরকারি অফিসের কর্মচারীরা দশম দিনের মতো কাজে যোগদান থেকে বিরত থাকলেও জরুরি কাজের জন্য বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও ব্যবসাকেন্দ্র খোলা থাকে।
দিনের শুরুতে শেখ মুজিব তার বাসভবনে বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিকেলে ন্যাপের (ওয়ালী) উদ্যোগে নিউ মার্কেট এলাকায় শোষণমুক্ত স্বাধীন বাংলার দাবিতে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ সভাপতিত্ব করেন। ‘লেখক-শিল্পী মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে লেখক ও শিল্পীরাও ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন।
নিউ ইয়র্কে প্রবাসী বাঙালি ছাত্ররা জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ করেন। তারা নিরস্ত্র বাঙালিদের হত্যা অবিলম্বে বন্ধের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব উ থান্টের কাছে স্মারকলিপি দেন।
১৯৭১ সালে চুয়াডাঙ্গায় একটি ভবনে ওড়ানো হচ্ছে বাংলাদেশের পতাকা/ছবি: সংগৃহীত
স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এক বিবৃতিতে বাঙালি সৈন্য, ইপিআর ও পুলিশ সদস্যদের পাকিস্তানি প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানায়।
শেখ মুজিব এক বিবৃতিতে বলেন, ক্ষমতাসীন চক্র প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোবৃত্তি নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্তে লিপ্ত। সামরিক সজ্জা বজায় রেখে বাংলার বুকে জরুরি অবস্থা কায়েম রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
করাচিতে ন্যাপ প্রধান ওয়ালী খান সাংবাদিকদের জানান, তিনি ১৩ মার্চ ঢাকায় এসে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য শাসনতন্ত্র প্রণয়ন নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করবেন। একই সঙ্গে এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খান শেখ মুজিবকে টেলিগ্রাম/টেলিফোন বার্তায় পরিস্থিতি যে কোনো সময় পরিবর্তনশীল এবং সেনানিবাস পাকিস্তানের পতাকার মর্যাদা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান।
চট্টগ্রামে জহুর আহমেদ চৌধুরী, এম আর সিদ্দিকী, এম এ হান্নান, এম এ মান্নান, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মৌলভী সৈয়দ আহমেদ ও এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে ‘চট্টগ্রাম সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে আসা যে কোনো সিদ্ধান্ত চট্টগ্রামে বাস্তবায়নের সংকল্প জানানো হয়।
তথ্যসূত্র: রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদীর ‘৭১ এর দশমাস’, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও ১৯৭১ সালে প্রকাশিত সংবাদপত্র
এমএএস/একিউএফ