টানা বড় দরপতনের পর দেশের শেয়ারবাজারে টানা বড় উত্থান প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (১০ মার্চ) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি সবগুলো মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। একই সঙ্গে ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।
এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই দরপতন হয়। এতে এক সপ্তাহেই ডিএসইর প্রধান সূচক ৩৫৯ পয়েন্ট কমে যায়। চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন হয়। একদিনে ডিএসইর প্রধান সূচক ২৩১ পয়েন্ট কমে যায়। তবে দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার সূচকটি ১৩২ পয়েন্ট বাড়ে।
এমন পতন-উত্থানের পর মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়ার তালিকাও বড় হয়। ফলে সূচকের বড় উত্থান দিয়েই লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৩৩৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩টির। আর ৩৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে, ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৮৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে একটির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৬৪টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে একটির এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৮৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১১টির এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ২২টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১১টির দাম অপরিবর্তিত আছে। কোনো মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম কমেনি।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৪৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৮৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৫৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৬২ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৩৮ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
মূল্যসূচকের বড় উত্থানের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৯৩ কোটি ৭৩ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪১৬ কোটি ৯ টাকা। এ হিসেবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১৭৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।
এ লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৭ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৭৪ লাখ টাকার। ২০ কোটি ৫৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে খান ওরিয়ন ইনফিউশন।
এছাড়া, ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- রবি, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, যমুনা ব্যাংক, ইনটেক লিমিটেড, ব্যাংক এশিয়া, লাভেলো আইসক্রিম ও উত্তরা ব্যাংক।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৩৩২ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩২টির এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৪৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
এমএএস/এমকেআর