জাতীয়

ঈদযাত্রায় তেল নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, ফিলিং স্টেশনে ভিড়

দেশে সরকারিভাবে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে দাবি করা হলেও বাস্তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সংগ্রহে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যানবাহন চালকদের। ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে জ্বালানি নিতে দেখা গেছে তাদের।

ঈদ সামনে রেখে টানা সরকারি ছুটিতে নাড়ির টানে পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে ছুটছেন লাখো মানুষ। গণপরিবহনের পাশাপাশি অনেকেই ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে যাত্রা করছেন। ফলে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে জ্বালানির চাহিদা।

এরই মধ্যে যাত্রাপথে তেল সংকটের খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই আগেভাগে রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন থেকে ট্যাংক পূর্ণ করে নিচ্ছেন। এতে তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ ও দীর্ঘ সারি।

বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর শাহবাগ, নীলক্ষেত, ঢাকা কলেজ ও বাড্ডা এলাকার বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের দীর্ঘ সারি। কোথাও প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস, আবার কোথাও মোটরসাইকেলের সারি চোখে পড়ে।

দুপুর ২টার দিকে শাহবাগ এলাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সামনে থেকে শুরু হয়ে পরিবাগ পর্যন্ত প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও জিপের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। একই সঙ্গে পাশের সড়কে মোটরসাইকেলের আলাদা সারিও ছিল।

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সিগন্যালের সামনে এক যুবক এ প্রতিবেদকের কাছে লাইনের শেষ কোথায় জানতে চান। বিএমইউয়ের সামনে পর্যন্ত লাইন রয়েছে শুনে তিনি ফোনে বন্ধুকে দ্রুত চলে আসতে বলেন।

তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন আগে তো আজিজ সুপার মার্কেট পর্যন্ত লাইন চলে গিয়েছিল। সে তুলনায় আজ কিছুটা কম।’

আজিমপুরের বাসিন্দা আতাউর রহমান জানান, ফিলিং স্টেশনগুলোতে সকাল ১০টার আগে এবং ইফতারের পর ভিড় তুলনামূলক কম থাকে।

তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার ইফতারের পর মাত্র ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে গাড়ির ট্যাংক পূর্ণ করতে পেরেছি।’

রাজধানীর বাইরে পরিস্থিতি আরও জটিল বলে জানা গেছে। বিভিন্ন জেলায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি সংগ্রহে বিলম্ব হওয়ায় পরিবহন চলাচলেও প্রভাব পড়ছে।

গাবতলী, মহাখালী ও যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক বাস নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ছাড়তে পারছে না। ফলে ঈদযাত্রীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

টিকিট বিক্রেতারা জানান, বিভিন্ন জেলা থেকে জ্বালানি সংগ্রহে দেরি হওয়ায় বাস সময়মতো ঢাকায় পৌঁছাতে পারছে না। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে, তবে এ বিষয়ে তাদের কিছু করার নেই।

সরকারি হিসাবে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও মাঠপর্যায়ে সরবরাহে এই চাপ ও বিশৃঙ্খলা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ঈদের মতো বড় ভ্রমণ মৌসুমে এমন পরিস্থিতি যাত্রী ও চালকদের জন্য বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনেকেই তাই ঝুঁকি না নিয়ে আগেভাগেই ট্যাংক ভর্তি করে যাত্রা শুরু করছেন—যাতে পথে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যয় পড়তে না হয়।

এমইউ/বিএ