রংপুরের বাসিন্দা সৈকত হোসেন। তিনি হেমায়েতপুরে একটি প্যাকেজিং কারখানায় চাকরি করেন। ছুটির কোনো নিশ্চিয়তা ছিল না। বুধবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ডিউটি করে ছুটে এসেছেন গাবতলীতে। এরপর বিআরটিসির দ্বিতল বাসে চেপে যাচ্ছেন রংপুর। তাকে ভাড়া গুনতে হয়েছে ৮০০ টাকা।
সৈকত বলেন, ছুটি পাওয়ার কথা ছিল না। বস হঠাৎ ছুটি দিয়েছেন, তাই মা-বাবার সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছি।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের টানা সাতদিনের ছুটি শুরু হয়েছে। সোমবার অফিস শেষেই পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেন তারা। গ্রামে ঈদ উদযাপন করতে এখনো রাজধানী ছাড়ছেন বেসরকারি চাকরিজীবীসহ অন্যান্য পেশার মানুষ। ফলে চাপ বেড়েছে গাবতলীতে।
এসব যাত্রীর মধ্যে অনেকের ছুটি কবে হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। অনেকেই অগ্রিম টিকিটও কাটতে পারেননি। এমন হাজারো যাত্রী বাসের জন্য গাবতলীর সড়কে দাঁড়িয়ে আছেন। ঢাকার অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করা বাস এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সেবা দেওয়া বিআরটিসির দ্বিতল বাস এখন তাদের ভরসা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে যাচ্ছে এসব বাস।
বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
মিরপুরে একটি মুদি দোকানে কাজ করেন খুলনার মুনির হোসেন। ছুটির কোনো নিশ্চিয়তা ছিল না তার। কিন্তু দোকানের মালিক ১০ হাজার টাকা বোনাসসহ ছুটি দিয়েছেন।
সোহাগ পরিবহনে ৭৫০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছেন তিনি। ভাড়া ঠিক আছে বলে দাবি তার।
ঘরমুখো যাত্রীরা বলছেন, পোশাক কারখানা ছুটি হওয়ার কারণে হঠাৎ করেই গাবতলীতে চাপ বেড়েছে।
মিরপুরের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন বগুড়ার গাবতলীর বাসিন্দা মোহাম্মদ সুমন। বিআরটিসির স্পেশাল পরিবহনে ৫০০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছেন। বাসটি অন্য সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিবহন করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিকড় পরিবহন সাধারণত মিরপুর-যাত্রাবাড়ী রুটে যাতায়াত করে। অথচ আজ গাবতলী থেকে পাটুরিয়ার যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাচ্ছে। ভাড়া নিচ্ছে ২০০ টাকা।
ঢাকা থেকে রংপুরে ছেড়ে যাচ্ছে বিআরটিসির বাস। ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৮০০ টাকা। অথচ বাসটি আহছান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী পরিবহনে নিয়োজিত। এছাড়া লাব্বাইক, বৈশাখি, ঠিকানা, অছিম, মৌমিতা, নীলাচল, প্রজাপতি, পরিস্থান, লাভলী পরিবহন ঢাকার অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করলেও এগুলো ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাচ্ছে।
এদিকে দূরপাল্লার যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চলমান। যাত্রীদের অভিযোগ, বাড়তি ভাড়ায় আশায় পর্যাপ্ত টিকিট দেওয়া হচ্ছে না। আবার পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত যাত্রী না থাকায় তারা বাস ছাড়তে পারছেন না।
এমওএস/ইএ