‘ট্রেনটা হঠাৎ করে কেঁপে উঠলো। তার পরই দেখি মানুষ চিৎকার করছে। কয়েকটা বগি কাত হয়ে গেছে। সবাই প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াচ্ছিল।’
এভাবেই নিজের আতঙ্কের কথা জানান দুর্ঘটনার শিকার নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী আমিনুল ইসলাম। ৯ বগি লাইনচ্যুতের ঘটনায় শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে সান্তাহার জংশনের কাছাকাছি ছাতনীগ্রামের বাগবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সাময়িকভাবে উত্তরাঞ্চলের অন্তত পাঁচ জেলার সঙ্গে ঢাকার সরাসরি রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে ট্রেনটি দুলতে শুরু করে এবং মুহূর্তের মধ্যে কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পাশের জমিতে ছিটকে পড়ে।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করেন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৪৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মোট আহতের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। অনেকে নিজেরাই নিকটবর্তী হাসপাতালে চলে যান।
আরও পড়ুন: নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯ বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত
নওগাঁ সদর হাসপাতাল, আদমদীঘী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং আশপাশের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে আহতদের ভর্তি করা হয়েছে। নওগাঁ সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অন্তত ৮০ জন চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। যাদের মধ্যে অন্তত ২০ জনকে ভর্তি করতে হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দুর্ঘটনার ফলে উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ রেলরুটটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাট জেলার সঙ্গে ঢাকার সরাসরি ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
মিনহাজ নামের একজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঈদের সময়ই যদি এমন হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাবো? টিকিট কেটে এত দূর এসে আটকে গেলাম।’
এসআর/এএসএম