জাতীয়

যানবাহন পারাপার-টোল আদায়ে রেকর্ড পদ্মা ও যমুনা সেতুতে

ঈদুল ফিতর ঘিরে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ে রেকর্ড গড়েছে দেশের প্রধান দুটি সেতু—পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু। যেখানে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ের নজির স্থাপন হয়েছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে সেতু কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পদ্মা সেতুতে চলতি বছরের ১৭ থেকে ১৯ মার্চ—এই তিন দিনে মোট ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৮২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ১ লাখ ৮০২টির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই তিন দিনে টোল আদায় হয়েছে মোট ১৩ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার ৮০০ টাকা। গত বছর একই সময়ে টোল আদায় হয়েছিল ১২ কোটি ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা। অর্থাৎ, যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়—দুই ক্ষেত্রেই নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।

যমুনা সেতুতে ১৮ মার্চ একদিনেই সর্বোচ্চ ৫১ হাজার ৩৮৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা ২০২৫ সালের সর্বোচ্চ ৪৮ হাজার ৩৬৮টির রেকর্ড অতিক্রম করেছে। ওইদিন টোল আদায় হয় ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা, যা আগের বছরের একদিনে সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৪৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৫০ টাকার চেয়েও বেশি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছর যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও কোথাও বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা দীর্ঘস্থায়ী যানজট দেখা যায়নি। যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও নিবিড় নজরদারির ফলে সড়ক যোগাযোগ সচল রাখা সম্ভব হয়েছে।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে টোল কালেক্টরদের প্রশিক্ষণ প্রদান, দক্ষ টোল কালেক্টর নিয়োগ, সার্বক্ষণিক টোল লেন চালু রাখা, মোটরসাইকেলের জন্য লেন বাড়ানো, নন-স্টপ ইটিসি চালু, মাওয়া ও এলেঙ্গা বাস বে-উন্মুক্তকরণ, সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক মনিটরিং, উচ্চপর্যায়ের সার্বক্ষণিক মনিটরিং টিম গঠন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, যাত্রীদের জরুরি সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, সেতুর বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার, ভারী রেকারসহ দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম এবং ইমার্জেন্সি টোল লেন চালুসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, সরকারের সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে এবারের ঈদযাত্রা আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হয়েছে। 

ভবিষ্যতেও আধুনিক ও কার্যকর সড়ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

আরএমএম/এমকেআর