ঈদের দিনটি বছরের আর দশটা দিনের মতো নয়। সবাই মাতে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে। কারাগারেও কোনো ভেদাভেদ থাকে না। আনন্দের ছোঁয়া লাগে কারাগারের উঁচু দেওয়ালের ভেতরেও। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করেন সব শ্রেণির বন্দি।
শত বিষাদের মধ্যেও লোহার শিকল আর নির্জন কক্ষে ঈদের সকালটা হয়ে ওঠে ভিন্ন রকম। বন্দিদের চোখে-মুখে ভেসে ওঠে একটুখানি উচ্ছ্বাস, আরও বেশি মনে পড়ে পরিবারের কথা, প্রিয়জনের স্মৃতি কিংবা ঘরের রান্নার স্বাদ। এসব বিষয় ভেবে ঈদের দিন কারাগারে আয়োজন করা হয় বিশেষ খাবার। সেই খাবারে শুধু স্বাদ নয়, থাকে ভালোবাসার ছোঁয়াও।
ঈদের নামাজের জামাতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ান বন্দিরা। সেখানে থাকে না কোনো ভেদাভেদ-বিভাজন। সবার পরিচয় একটাই, তারা মানুষ। এবারও পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে সাধারণ বন্দি ও ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের মধ্যকার দূরত্ব ঘুঁচে যাবে। একসঙ্গে কাটবে ঈদের প্রতিটি মুহূর্ত।
ঈদের দিন কারাগারগুলোর বন্দিদের জন্য ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ বন্দি ও ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দির খাবার একই। উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি বন্দিদের জন্য স্বজনদের আনা খাবারও খেতে দেওয়া হয়, তবে একবার।-কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) জান্নাত-উল ফরহাদ
কারাগারের কঠিন দেওয়ালও যেন এদিন কিছুটা নরম হয়ে আসে, আর বন্দিদের হৃদয়ে জাগে নতুন করে বেঁচে থাকার, নতুন পথে ফেরার এক গভীর আকাঙ্ক্ষা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে করা মামলায় এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শতাধিক সাবেক মন্ত্রী, এমপি, শীর্ষস্থানীয় নেতা ও কর্মকর্তা কারাগারে আছেন। ডিভিশন পেয়েছেন ১৯২ জন। যাদের মধ্যে আছেন সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা এবং অন্য পেশার মানুষ।
আরও পড়ুনকারাগারে ডিভিশনে ১৫১ জনের মধ্যে ৬৮ জন সাবেক মন্ত্রী-এমপিকারাগারে ধারণক্ষমতা ৪২ হাজার, বন্দি ৭০ হাজারসরকার পাল্টালেও ‘কারা হেফাজতে’ মৃত্যু কমেনি, বেড়েছে আরও
কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদুল ফিতরের দিন সাধারণ বন্দিদের মতোই কারাগারে থাকা ভিআইপিসহ ডিভিশন পাওয়া বন্দিদের একই ধরনের খাবার পরিবেশন করা হবে।
এদিন সকালের খাবারে থাকছে পায়েস, সেমাই ও মুড়ি।
দুপুরে থাকছে পোলাও, মুরগির রোস্ট, গরু ও খাসির মাংস, সালাদ, মিষ্টি ও পান।
আর রাতে দেওয়া হবে সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ ভাজা।
অন্য সময় বন্দিরা যা খানসারা বছর সাধারণ বন্দিদের সকালে দেওয়া হয় হালুয়া, রুটি ও ডিম। দুপুরের খাবারের তালিকায় থাকে ভাত, ডাল, সবজি। রাতের খাবারে দেওয়া হয় ভাত, ডাল, মাছ বা গরুর মাংস। আর ডিভিশন পাওয়া বন্দিদের খাবার তাদের পছন্দ অনুযায়ী আলাদা রান্নার ব্যবস্থা করা হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ যা বলছেনকারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) জান্নাত-উল ফরহাদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঈদের দিন কারাগারগুলোর বন্দিদের জন্য ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ বন্দি ও ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দির খাবার একই। উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি বন্দিদের জন্য স্বজনদের আনা খাবারও খেতে দেওয়া হয়, তবে একবার।’
এবার ঈদের দিন কারাগারের ভেতরে বন্দিদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া ঈদের পরদিন থেকে তিনদিন বন্দিদের সঙ্গে তাদের স্বজনদের মোবাইলে কথা বলতে দেওয়া হবে। এ সময় স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতও করতে পারবেন তারা।-ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ
তিনি বলেন, ‘ঈদের তিনদিনে ফোনে একবার কথা বলতে পারবেন বন্দিরা যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। এছাড়া সরাসরি সাক্ষাৎ করতে পারবেন একজন আত্মীয়ের সঙ্গে।’
জান্নাত-উল ফরহাদ আরও বলেন, ‘দেশের ৭৫টি কারাগারের মধ্যে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কিছু কারাগার ঈদের দিন অথবা পরদিন যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কারাগারের ভেতরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।’
সারা দেশে কারাগারের সংখ্যা ৭৫টি। এর মধ্যে কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন ৯ হাজার ৩২২ জন।
এই কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঈদের সময় অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুয়ায়ী বন্দিদের জন্য আলাদা বন্দোবস্ত থাকে। এবার ঈদের দিন কারাগারের ভেতরে বন্দিদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া ঈদের পরদিন থেকে তিনদিন বন্দিদের সঙ্গে তাদের স্বজনদের মোবাইলে কথা বলতে দেওয়া হবে। এ সময় স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতও করতে পারবেন তারা।’
টিটি/এএসএ