দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দানে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে ঈদুল ফিতরের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ঈদগাহ মিনার ময়দান হিসেবে পরিচিত গোর-এ শহীদ ময়দানে এবার ঈদের নামাজ আদায় করেছেন কিশোরগঞ্জ, বাগেরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, ঢাকা ও গাজীপুর থেকে আসা বেশ কয়েকজন মুসল্লি।
তবে এবার রাতে ঝড়-বৃষ্টি হওয়ার কারণে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এ ঈদগাহ ময়দানে মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল অপেক্ষাকৃত কম। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় মসজিদ ও ছোট ছোট মাঠগুলোতে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এর আগে সকাল ৬টা থেকে মুসল্লিরা সমবেত হতে শুরু করেন ঈদগাহে। ঠিক ৯টায় শুরু হয় নামাজ। এখানে ইমামতি করেন জাতীয় ইমাম সমিতি দিনাজপুরের সভাপতি মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী। নামাজ শেষে দেশ, জাতি, মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম উম্মাহসহ ’৭১ ও ’২৪-এর শহীদ ও আহতদের জন্য শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
বৃহৎ এ জামাত শুরুর আগে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর-সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা জজ মো. আলমগীর হোসেন, জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, দিনাজপুর পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসাসহ সামাজিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের জনতা।
দিনাজপুর-সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাকে আপনারা নির্বাচিত করেছেন এজন্য আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। এবার মাঠে কিছুটা ত্রুটি রয়েছে। আগামীতে আরও সুন্দর পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হবে। সবাইকে ঈদ মোবারক।’
জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মুসল্লিদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘রমজানে আমরা যে তাকওয়া অর্জন করেছি, তা হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা থেকে আসা মুসল্লি স্বাস্থ্য সহকারী আব্দুল ওহাব (৫৫) বলেন, ‘আমরা প্রতিবার শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ আদায় করি। শুনেছি দিনাজপুরে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় মিনার ও ময়দানে লাখো মানুষ নামাজ আদায় করে। আজ আমি এখানে নামাজ আদায় করলাম। এত বড় জামাতে নামাজ আদায় করতে পেরে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।’
নীলফামারী জেলা থেকে আসা রংপুরের একটি হিমাগারের ম্যানেজার আব্দুস সাত্তার (৬৩) জানান, তিনি এবার নিয়ে ৭ বার এ মাঠে নামাজ আদায় করলেন। তিনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। অন্যবারের চেয়ে এবারের ব্যবস্থাপনা ভালো ছিল। এত বড় মাঠে এত মুসল্লির সঙ্গে নিয়ে নামাজ আদায় করার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দান ও ঈদগাহ মিনার ২১.৯৯ একর আয়তনবিশিষ্ট। এ ঈদগাহে ১৯৪৭ সাল থেকে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হলেও আধুনিক নির্মাণশৈলীতে বৃহৎ পরিসরে ঈদের জামাত শুরু হয় ২০১৭ সাল থেকে। সকাল ৯টায় ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।
এমদাদুল হক মিলন/আরএইচ/এএসএম