দেশজুড়ে

দিনাজপুরে জ্বালানি তেলের জন্য ছোটাছুটি

দিনাজপুরের স্টেশনগুলোতে অকটেন সংগ্রহ করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন বাইকাররা। অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন ও তেলের ডিপো বন্ধ থাকায় খোলা থাকা পাম্পগুলোতে বেড়েছে চাপ। ছুটছেন এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে।

রোববার (২২ মার্চ) বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অকটেন নিতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে বাইকারদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও দীর্ঘ লাইনের কারণে আশপাশের সড়কে যানজটও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কের পাশে পাম্পগুলোতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বাইকারদের অভিযোগ, ছুটির কারণে অনেক পাম্প বন্ধ থাকায় সীমিত পাম্পে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এতে সময় ও জ্বালানি—দুই দিক থেকে ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।

স্থানীয়রা জানান, দিনাজপুর শহরের কোনো পাম্পে পেট্রোল ও ডিজেল থাকলেও অকটেন নেই। তাছাড়া রোববার বিকালে একটি ছাড়া শহরের সব পাম্প বন্ধ পাওয়া গেছে। সূচনা ফিলিং স্টেশনে বাইকাররা মোটরসাইকেল নিয়ে গিয়ে ২০০ টাকার করে পেট্রোল নিয়ে ফিরে আসছেন।

অপরদিকে তেল দিচ্ছে খবর শুনেই উপশহর, মর্ডান মোড়, সুইহারী, পুলহাট, কাঞ্চন বাজারের পাম্পগুলোতে এ পাম্প থেকে ওই পাম্পে বাইকাররা ছুটে ফিরছেন। কিন্তু তেল পাচ্ছেন না। বিকেলে হাউজিং মোড়ের মেসার্স পাইওনিয়ার ফিলিং স্টেশনের সামনে পুলিশের পিকআপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

উপশহরের লুৎফা ফিলিং স্টেশনের সামনে সদর উপজেলার বালুপাড়া গ্রামের বাইকার আনিসুর রহমান বলেন, বাড়ির সামনে একটি পাম্প রয়েছে। সেখানে পেট্রোল না পেয়ে শহরে আসি। কিন্তু শহরের কোনো পাম্পে তেল পেলাম না। রিজার্ভ তেল দিয়ে চলছি। জানি না বাড়ি যেতে পারব কি না।

ওই পাম্পে তেল নিতে আসা বিরল উপজেলার নুর নেওয়াজ বলেন, বউকে নিয়ে দাওয়াত খেতে শহরে এসেছিলাম। অনেকগুলো পাম্পে ঘুরলাম। কোনো পাম্পে তেল পেলাম না। বাইকের তেল শেষ হয়ে গেছে।

হাউজিং মোড়ের মেসার্স পাইওনিয়ার ফিলিং স্টেশনের সামনে কথা হয় সরকারি চাকরি করেন ইশরাফুজ্জামান সিজুর সঙ্গে। তিনি বলেন, সকাল থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পগুলোতে ঘুরে তেল পাচ্ছি না। যদিও পাম্পে পেলাম, তো তেল দিল ১০০ টাকার। এ তেল দিয়ে ৩৫ থেকে ৩৮ কিলোমিটার চলতে পারব।

লুৎফা ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী রিপন বলেন, গত বুধবার ৩ হাজার লিটার পেট্রোল ও ৩ লিটার ডিজেল পেয়েছিলাম। যা ঈদের আগের দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় শেষ হয়ে গেছে। সেই থেকে পাম্প বন্ধ। পার্বতীপুর ডিপোতে ছুটির কারণে তেল দিচ্ছে না।

এমদাদুল হক মিলন/আরএইচ/এএসএম