দেশজুড়ে

কুমিল্লায় রেলক্রসিংয়ের দুই কর্মীকে আসামি করে মামলা

কুমিল্লায় ট্রেনের ধাক্কায় ১২ বাসযাত্রী নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে শেফালি আক্তার (৫৮) নামের এক নারী বাদী হয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানায় মামলাটি করেন।

আসামি করা হয় রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী মো. হেলাল ও মেহেদী হাসানকে।

এছাড়া রেলক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অজ্ঞাতনামা হিসেবে আসামি করা হয়েছে। শনিবার গভীর রাতের ওই ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ওই দুজনকে বরখাস্ত করেছিল রেলওয়ে বিভাগ।

মামলায় বাদী শেফালি আক্তার লাকসাম উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের প্রয়াত আক্তারুজ্জামানের স্ত্রী। তিনি দুর্ঘটনায় নিহত চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা সোহেল রানার (৪৬) খালা।

ঈদের দিন শনিবার দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চুয়াডাঙ্গা থেকে নোয়াখালীগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেন। এতে প্রাণ হারান সাতজন পুরুষ, দুই নারী, তিনশিশুসহ ১২ জন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন অন্তত ১৫ জন। হতাহতরা সবাই বাসের যাত্রী।

ঘটনার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বরত গেটম্যানের দায়িত্বহীনতায় এ ঘটনা ঘটেছে। ওই ক্রসিংয়ে দায়িত্বরত দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি এবং কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের পক্ষে থেকে আরও একটি তদন্ত কমিটিসহ তিনটি কমিটি করা হয়েছে।

এদিকে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে গেটম্যান হিসেবে দুজনকে বরখাস্ত করা হলেও মামলায় একজনকে অস্থায়ী গেটম্যান এবং আরেকজনকে ওয়েম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার প্রধান আসামি মো. হেলাল (৪১) কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পদুয়া বাজারের রেলওয়ে ওভারপাসের নিচে থাকা রেলগেট নম্বর ই/৪৭-এর অস্থায়ী গেটম্যান হিসেবে কর্মরত।

অন্য আসামি মেহেদী হাসান (৩৩) বুড়িচং উপজেলার বাহিরীপাড়া এলাকার আবদুল কাদেরের ছেলে। তিনি ওই লেভেল ক্রসিংয়ে ওয়েম্যান হিসেবে কর্মরত।

এ বিষয়ে জানতে মো. হেলাল ও মেহেদী হাসানের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। দুর্ঘটনার পর থেকে তারা আত্মগোপনে।

মামলার বাদী শেফালি আক্তার এজাহারে উল্লেখ করেন, নিহত সোহেল রানা তার বোনের ছেলে। তিনি মালয়েশিয়াপ্রবাসী। গত ১৫ রমজানে প্রবাস থেকে বাংলাদেশে ছুটিতে আসে। ঈদের দিন সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটের দিকে ঝিনাইদহের খালিশপুর বাস কাউন্টার থেকে মামুন স্পেশাল পরিবহনের বাসে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী–সন্তান লাকসামে বেড়াতে রওনা দেয়। শনিবার রাত ৩টার একটু আগে বাসটি পদুয়া বাজার রেলক্রসিংয়ে আসে।

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ঢাকা মেইল ওয়ান আপ ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে ধাক্কা লাগার কারণে বাসটি ইঞ্জিনের সঙ্গে আটকে যায়। এ সময় ইঞ্জিনের মুখে করে বাসটি টেনেহিঁচড়ে প্রায় এক কিলোমিটার নিয়ে যায় ট্রেনটি।

এ বিষয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দিন খন্দকার বলেন, পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংকে ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। লেভেল ক্রসিংয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী হেলাল ও মেহেদী হাসানকে আসামি করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) রাতে ২টা ৫৫ মিনিটে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীর দিকে যাওয়ার পথে মামুন পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে ১২ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন অন্তত ১৫ জন। তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জাহিদ পাটোয়ারী/আরএইচ/এএসএম