আন্তর্জাতিক

হরমুজ সংকটে তেলের উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে কুয়েত

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় অপরিশোধিত তেল উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে কুয়েত। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে হামলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে উৎপাদন হ্রাস করা হয়েছে। পরিস্থিতিকে গুরুতর উত্তেজনা বলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে বলে উল্লেখ করেছে কুয়েত।

তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান হলে দ্রুত উৎপাদন পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানায় কেপিসি। পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস সময় লাগতে পারে।

সংস্থাটি নতুন উৎপাদনের পরিমাণ প্রকাশ না করলেও জানা গেছে, গত ১০ মার্চ কুয়েত দৈনিক উৎপাদন প্রায় ৫ লাখ ব্যারেলে নামিয়ে আনে, যেখানে যুদ্ধ শুরুর আগে তা ছিল ৩০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হয়। মার্চের শুরু থেকে এ পথ কার্যত বিঘ্নিত হওয়ায় জাহাজ চলাচলের খরচ বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর সামরিক অভিযান চালানোর পর বর্তমান এই উত্তেজনা শুরু হয়। এর প্রতিবাদে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানে ইতোমধ্যে ১,৩৪০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।

এছাড়া লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে অন্তত ১,০৭২ জন নিহত এবং ২,৯৬৬ জন আহত হয়েছেন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

কেএম