জাতীয়

এলো স্বাধীনতার ঘোষণা

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর আগ্রাসনের আগমুহূর্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে মেজর জিয়াউর রহমান দেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।

এই ঘোষণাটি ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের (ইপিআর) ওয়ারলেসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রামের স্থানীয় বেতারকেন্দ্র থেকে এই বার্তা ২৬ ও ২৭ মার্চ আরও বিস্তৃতভাবে সম্প্রচার করা হয়।

স্বাধীনতার ঘোষণায় বলা হয়, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আপনারা যা কিছু আছে তা নিয়ে দখলদার বাহিনীর মোকাবিলা করুন এবং চূড়ান্ত বিজয় পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যান।

লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকার দক্ষিণ এশিয়া প্রতিনিধি ডেভিড লোশাকও উল্লেখ করেন, ঘোষণার আওয়াজ ক্ষীণ ছিল এবং সম্ভবত এটি আগেই রেকর্ড করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান স্বাধীনতার বার্তাটি ২৬ মার্চ দুপুর ২টা ১০ মিনিট এবং ২টা ৩০ মিনিটে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে পাঠান। এর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ও স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কিত অনুষ্ঠানও সম্প্রচারিত হয়।

গণহত্যা

শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকার আদমজী কলেজ থেকে ফ্ল্যাগ স্টাফ হাউজে আটক রাখা হয় এবং পরবর্তীতে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পাকিস্তানি সেনারা রাতেই গণহত্যা শুরু করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পিলখানা, চট্টগ্রাম, নওগাঁ, জয়দেবপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় বাঙালিরা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীরা পাকিস্তানি সেনাদের ভারী অস্ত্রের সামনে নিহত হন। বিশেষ করে রোকেয়া হলে ছয়জন ছাত্রীর নগ্ন মরদেহ পাওয়া যায়। শহীদদের অনেককে হল সংলগ্ন মাঠে মাটিচাপা দিয়ে বুলডোজার চালিয়ে ধ্বংস করা হয়।

আজ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিহতের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই, তবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী অন্তত ১৯৫ জনের নাম নিশ্চিত। এদিন ভোরে মোয়াজ্জেম হোসেনসহ বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকরা পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে নিহত হন।

২৬ মার্চের ঘটনাগুলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অমোচনীয় এক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। স্বাধীনতার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বাঙালি জনগণ প্রতিরোধের হাতিয়ার হিসেবে দাঁড়িয়ে ইতিহাসে অমর হয়ে থাকেন।

তথ্যসূত্র: রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদীর ‘৭১ এর দশমাস’, শহীদ জননী জাহানা ইমাম এর ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী ‘৭১ এর দশমাস’, বিবিসি, ডয়চে ভেলে।

এমএএস/বিএ