রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) দিনগত রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান।
তিনি বলেন, একটি কমিটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহিদুল ইসলামকে প্রধান করে ও অপরটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মেকে প্রধান করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত সচিব তিন দিনের মধ্যে ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ৩-৪ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিবেন।
মন্ত্রী বলেন, বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। খবর পাওয়ার পর বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ এবং ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও ঝড়ো পরিস্থিতির কারণে উদ্ধার কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও শেষ পর্যন্ত বাসটি নদী থেকে তোলা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, রাত ১টা পর্যন্ত ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন নারী ও পাঁচজন পুরুষ রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের যৌথ তৎপরতা রাতেও চলবে এবং পরদিন দিনের আলোয় আরও বিস্তৃত এলাকায় তল্লাশি চালানো হবে। নিখোঁজদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে, যা পরদিন প্রকাশ করা হতে পারে।
মরদেহ শনাক্তের পর জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘটনাটি নিয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৫০ জন যাত্রী নিয়ে পদ্মায় পড়ে যায়। মুহূর্তে বাসটি পানিতে তলিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
এমডিএএ/আরএইচ