ঈদের টানা সাত দিনের ছুটি এরপর স্বাধীনতা দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় মানুষ এখনো রাজধানীতে সেভাবে ফিরতে শুরু করেনি। অনেকে এখনো বাড়ি ফিরছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল থেকে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস স্ট্যান্ডসহ আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফেরার চেয়ে এখনো রাজধানী ছাড়ছে বেশি মানুষ।
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অল্প কিছু বাস রাজধানীতে প্রবেশ করছে। অন্যদিকে সায়েদাবাদ বাস স্ট্যান্ডে বিভিন্ন বাস কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটির পর দুদিন খোলা, এরপর আবার তিন দিনের ছুটি। তাই যারা ঈদে বাড়ি গেছেন তাদের বেশিরভাগই এখনো ফেরেনি। আগামীকাল শুক্রবার এবং পর দিন শনিবার ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এই দুই দিনে ছুটি শেষ করে অধিকাংশ কর্মজীবী মানুষ রাজধানীতে ফিরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সে হিসেবে আগামী রোববার থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে এবং রাজধানীতে কর্মচাঞ্চল্য পুরোপুরি ফিরে আসবে।
যারা এরই মধ্যে রাজধানীতে ফিরছেন, তাদের যাত্রা স্বস্তিদায়ক। বাসে অতিরিক্ত ভিড় নেই, টিকিট পাওয়া যাচ্ছে সহজেই। সড়কেও বড় ধরনের যানজট না থাকায় নির্ধারিত সময়েই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন যাত্রীরা।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করা সিডিএম পরিবহনের একটি বাস এসে থামলো সায়দাবাদ জনপথ মোড়ে। এই বাস থেকে নামলেন যাত্রী শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘শনিবার থেকে আমার অফিস। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকায় একদিন আগেই আসতে হয়েছে।’
কুষ্টিয়া রুটে চলাচল করা গোল্ডেন লাইনের চালক আব্দুল জব্বার বলেন, যেভাবে যাত্রী গেছে সেভাবে এখনো আসেনি। অল্প কিছু যাত্রী নিয়ে ঢাকা এসেছি। আশা করি কাল ও পরশু যাত্রী হবে।
জনপদ মোড়সহ সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের আশপাশের এলাকায় প্রচুর সিএনজি চালিত অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। কয়েকজন অটোরিকশা চালক দাঁড়িয়ে গল্প করছিলেন। তাদের একজন ইমন মিয়া বলেন, যাত্রী নেই বললেই চলে। সেই সকাল থেকে এসে বসে আছি। শুক্র ও শনিবার যাত্রী হইতে পারে।
অন্যদিকে সায়েদাবাদের হানিফ, ইমাদ, শ্যামলী কাউন্টারে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। এছাড়া বরিশাল, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট, লাকসামসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য অনেক বাস অপেক্ষা করছে।
যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ ও আশপাশের এলাকায় যানবাহন বাধাহীনভাবে চলাচল করছে। কোনো যানজট নেই।
সায়েদাবাদে বিভিন্ন বাসের টিকিট বিক্রয় কর্মী আলী হোসেন বলেন, আজও যাত্রী আছে। তবে খুব বেশি না।
গত ২১ মার্চ দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। ঈদ উপলক্ষে গত ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা ৭ দিন ছুটি কাটিয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এরপর ২৪ ও ২৫ মার্চ (মঙ্গল ও বুধবার) অফিস খোলা ছিল। এরপর আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ছুটি। এরপর শুক্র এবং শনিবার (২৭ ও ২৮ মার্চ) দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি।
আরএমএম/এমআইএইচএস