উজানে পাহাড়ি ঢলে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীতে অসময়ে পানি বেড়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চরের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এতে ধান, পেঁয়াজ, চিনাবাদামসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। ফসল নষ্ট হওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন যমুনাপাড়ের কৃষকেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনায় জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। সেই বালুচরে কৃষিবিপ্লব ঘটিয়েছেন নদীভাঙা মানুষ। বালুতেই ফলাচ্ছেন সোনার ফসল। মাঠজুড়ে এখন সবুজের হাতছানি। চাষ হচ্ছে গম, ভুট্টা, আলুসহ নানান জাতের ফসল ও সবজি। আগে যেখানে শুধু হাতেগোনা কয়েকটি ফসল চাষাবাদ হতো; সেখানে এখন সবজিসহ প্রায় সব ধরনের ফসল চাষ হচ্ছে। অনেক অনাবাদি জমিও এসেছে চাষের আওতায়। কৃষিতে নির্ভর করেই সুদিনের স্বপ্ন বুনছেন নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করা চরের মানুষ।
কিন্তু কয়েক দিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনায় আকস্মিক পানি বাড়ায় নদীর ঢালে ও চরের নিচু জমিতে লাগানো ধান, বাদাম, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল তলিয়ে গেছে। দিশাহারা হয়ে অনেক কৃষক অপরিপক্ব বোরো ধান কেটে গরু-মহিষকে খাওয়াচ্ছেন।
আরও পড়ুনফরিদপুরে ছাদ বাগানে ‘মরুর গোলাপ’ চাষে সফল তরুণযমুনাপাড়ের পুখুরিয়া গ্রামের কৃষক বাবুল শেখ বলেন, ‘বন্যার পানি দেখলেই ভয় করে। চরের নিচা জমিতে পানি উঠতে শুরু করছে। এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করছি। যেভাবে নদীর পানি বাড়তেছে; তাতে ফসল ঘরে তুলতে পারবো কি না জানি না। এ ছাড়া বাদাম নিয়াও দুশ্চিন্তায় পড়তে হইছে।’
একই এলাকার ভুতবাড়ি গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘চরের জমিতে চাষাবাদ করে সারাবছর চলতে হয় আমাগোরে। প্রত্যেক বচ্ছর বন্যায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। এক বিঘা জমিতে ধান ও পেঁয়াজের আবাদ করছি। ভাবছিলাম লাভ হইবো। এখন দেহি পানি বাড়ছে। এভাবে পানি বাড়লে ৪-৫ দিনের মধ্যে জমি তলাইয়া যাইবো।’
কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ধারদেনার ১০ হাজার টাকা খরচাপাতি করে জমিতে কালো বোরো ধান লাগাইছিলাম। ধান পাকতে এখনো ম্যালা দিন বাকি। তার আগেই ঢলে সব শ্যাষ হয়ে গেল।’
আরও পড়ুনদিনাজপুরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সূর্যমুখীর চাষধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ মৌসুমে চরের জমিতে বোরো ধান, পেঁয়াজ ও চিনাবাদামের আবাদ ছিল। অসময়ে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশ কিছু বোরো ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। আমরা সব সময় খবর রাখছি। কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়; সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।’
এলবি/এসইউ