উৎসবের মৌসুমে আমাদের দেশের রান্নাঘরে নানানরকম মসলাদার ও তৈলাক্ত খাবার বেশি রান্না হয়। কিন্তু মজাদার এসব খাবার শেষ হওয়ার পর থালা-বাসন থেকে জেদি তেলের দাগ দূর করা বেশ বিরক্তিকর হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষ করে বাঙালি রান্নায় তেলের আধিক্য থাকায় সাধারণ সাবান দিয়ে ধোয়ার পরও অনেক সময় চিটচিটে ভাব থেকে যায়। তাই জেনে নিন ঝকঝকে ও তেলমুক্ত থালা-বাসন পাওয়ার কার্যকরী কিছু কৌশল –
১. হালকা গরম পানির ব্যবহারতৈলাক্ত বাসন পরিষ্কারের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো হালকা গরম পানি। গরম পানি তেলকে গলিয়ে দেয়, ফলে সামান্য সাবান ব্যবহার করেই বাসন দ্রুত পরিষ্কার করা সম্ভব হয়। রান্নার কড়াই বা হাড়ি ধোয়ার আগে তাতে কিছুক্ষণ গরম পানি ও সামান্য লিকুইড সোপ দিয়ে ভিজিয়ে রাখলে তেল অনায়াসেই উঠে যায়।
২. লেবুর রস ও লবণলেবু হলো প্রাকৃতিক ক্লিনার। এটি কেবল তেলই দূর করে না, বরং বাসনের দুর্গন্ধও নাশ করে। একটি লেবু অর্ধেক করে কেটে তাতে কিছুটা লবণ ছিটিয়ে তৈলাক্ত অংশে ঘষুন। ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে তেলের আঠালো ভাব একদম থাকবে না।
পোড়া তেলের দাগ বা কালচে ভাব দূর করতে ভিনেগার এবং বেকিং সোডা অতুলনীয়। পাত্রে সামান্য পানি, ভিনেগার এবং বেকিং সোডা মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। এরপর মাজুনি দিয়ে ঘষলে পুরনো তেলচিটে দাগও সহজে পরিষ্কার হয়ে যাবে।
৪. চাল ধোয়া পানির ব্যবহারপুরনো দিনের এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত কার্যকর। চাল ধোয়া পানিতে স্টার্চ থাকে যা প্রাকৃতিক ডিটারজেন্ট হিসেবে কাজ করে। ফলে তৈলাক্ত বাসন এই পানিতে ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে তেলের স্তর আলগা হয়ে যায়।
৫. সঠিক মাজুনি ও সাবান নির্বাচনবাসনের ধরন অনুযায়ী মাজুনি ব্যবহার করুন। নন-স্টিক প্যানের জন্য নরম স্পঞ্জ এবং সাধারণ স্টিলের বাসনের জন্য জালের মাজুনি ব্যবহার করা ভালো। সবসময় ভালো মানের লিকুইড সোপ ব্যবহারের চেষ্টা করুন, কারণ এটি বার সোপের তুলনায় তেল কাটতে বেশি কার্যকর।
রান্নাঘর পরিষ্কার রাখা সুস্বাস্থ্যের প্রথম শর্ত। তাই এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে খুব অল্প পরিশ্রমেই আপনি পেতে পারেন ঝকঝকে ও তেলমুক্ত থালা-বাসন।
এএমপি/এমএস