মানিকগঞ্জে ভুট্টাক্ষেত থেকে মানুষের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) সকালে সদর উপজেলার দিঘুলিয়া এলাকা নদীপাড়ের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে মাথাটি উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, মাথাটি ওই এলাকায় তিনদিন আগে উদ্ধার হওয়া ইজিবাইকচালক রফিক মিয়ার (২৭)। ভুট্টাক্ষেত থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে তিনদিন আগে ওই তরুণের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
বানিয়াজুরি তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক পুলক কুমার দাস মজুমদার বলেন, সকালে দিঘুলিয়া এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে এক ব্যক্তি নিজের ক্ষেতে ভুট্টা তুলতে গেলে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন মাথাটি দেখতে পান। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন মাথাটি নদীতে নিক্ষেপ করার পর ভাসতে ভাসতে ভুট্টাক্ষেতের পাশে নদীর তীরে আসে। পরে কুকুর বা শেয়াল সেখান থেকে মাথাটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে আসতে পারে। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য মাথাটি মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী জানান, ইজিবাইকচালক রফিককে গলাকেটে হত্যার পর তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেন হত্যাকারীরা। উদ্ধার হওয়া মাথাটি রফিকের বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।
গত ২৫ মার্চ বিকেলে সদর উপজেলার কালীগঙ্গা নদী থেকে একটি মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে।
নিহত রফিক মিয়া (২৮) ঘিওর উপজেলার রাথুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন অটোচালক। তিনি ২৪ মার্চ অটোবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হলে পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে শনাক্ত করেন।
ঘটনার পরপর পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রথমে রিপন মিয়াকে ধামরাইয়ের কালামপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরমান হোসেন ও সজীব মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত রফিক ও গ্রেফতাররা একে অপরের পূর্বপরিচিত ও বন্ধু ছিলেন। অটোবাইক ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে তারা রফিককে কালীগঙ্গা নদীর তীরে ডেকে নেয়। সেখানে তাকে গলা কেটে হত্যা করে তারা পালিয়ে যায়। পরে অভিযুক্তদের কাছ থেকে ছিনতাই করা অটোবাইকসহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা ও হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
মো. সজল আলী/আরএইচ/এমএস