ইরানে হামলা-পাল্টাহামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে জ্বালানি তেলের সংকটে পড়েছে গোটা বিশ্ব। বাংলাদেশেও জ্বালানি তেল নিয়ে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। টানা প্রায় একমাস ফিলিং স্টেশন থেকে যানবাহনের তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে যানবাহনের চালক ও মালিকদের।
যদিও সরকার বারবার বলছে জ্বালানি তেল সংকট নেই, তবে ফিলিং স্টেশনগুলোতে চিত্র ভিন্ন। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও পাম্পগুলো থেকে চাহিদা মতো তেল না পাওয়া এবং অনেক পাম্প বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। তবে বেশি বিড়ম্বনায় পড়েছেন রাইড শেয়ারিং চালকরা। জ্বালানি তেল সংগ্রহে দীর্ঘ সময় ব্যয় হওয়ায় তারা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
আরও পড়ুনডিজেল সংকটে সৌরবিদ্যুতের নলকূপই কৃষকের ভরসা তেলের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে এমপিদের খোঁজখবর রাখার নির্দেশ
রোববার (২৯ মার্চ) রাজধানীর বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে দেখা যায়, তেল বিক্রি কার্যক্রম চালু থাকা পাম্পগুলোর সামনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। এসব পাম্পের সামনে অপেক্ষারত যানবাহন চালকদের সঙ্গে কথা বললে এমন ভোগান্তির দ্রুত অবসান চান তারা।
গতকাল শনিবার সকালেও রাজধানীর বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশন, আসাদগেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশন ও সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটা পাম্পের সামনেই জ্বালানি তেল নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ সারি।
আজও রাজধানীর এসব ফিলিং স্টেশনের সামনে যানবাহন চালকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। আসাদগেটে তালুকদার ফিলিং স্টেশনের সামনে কথা হয় রাইড শেয়ারিং করা মোটরসাইকেলচালক সজীবের সঙ্গে। তিনি কিছুটা ক্ষোভ নিয়ে জাগো নিউজকে বলেন, বাইক চালিয়েই সংসার চলে, আমি চলি। রাইড শেয়ারিং করি। এতদিন ঈদের ছুটি ছিল, তেমন যাত্রী ছিল না। কিন্তু এখন তো ছুটি শেষ। আমাদেরও কিছু ইনকাম করতে হবে। বাড়িতে টাকা পাঠাতে হবে। কিন্তু তেলের লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে প্রয়োজন মতো তেল পাচ্ছি না। সবদিক লস হচ্ছে। না পাচ্ছি তেল, না মারতে পারছি ভাড়া। সরকার তো বলছে তেলের অভাব নেই। তাহলে তেল পাচ্ছি না কেন!
আরেক মোটরসাইকেলচালক আরমান বলেন, পর পর দুদিন পাম্পের লাইনে প্রায় ৪০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অধৈর্য হয়ে ফিরে গেছি। কিন্তু আজ আর তেল না নিয়ে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তেলের জন্য প্রতিটা দিন এমন ভোগান্তি আর ভালো লাগে না। তেলের তো সংকট নেই। সরকারের উচিত তেলের দিকে নজর দেওয়া। অভাব নেই, কিন্তু গেলো কই?
কেআর/কেএসআর