খেলাধুলা

মেসি-রোনালদোর শেষ মঞ্চ, নতুন তারকাদের উত্থানের লড়াই

ফুটবল বিশ্বের দৃষ্টি এখন পুরোপুরি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দিকে। আগামী ৩১ মার্চ নির্ধারিত হবে শেষ ছয়টি দল, যারা জায়গা করে নেবে ৪৮ দলের এই বিশাল বিশ্বকাপ আসরে। এরপর আর মাত্র দুই মাসের কিছু বেশি সময় বাকি থাকবে, যখন মেক্সিকোর ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকায় উদ্বোধনী ম্যাচের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে।

এবারের বিশ্বকাপ অনেক দিক থেকেই আলাদা। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে, ফলে ম্যাচের সংখ্যা, ভ্রমণ এবং প্রতিযোগিতার চাপ- সবকিছুই আগের যে কোনো আসরের চেয়ে বেশি। একই সঙ্গে এটি এমন এক সময়, যখন ফুটবল ইতিহাসের সেরা প্রজন্মের শেষ অধ্যায় এবং নতুন প্রজন্মের উত্থান একসঙ্গে দেখা যাবে।

আইকন বনাম নতুন প্রজন্ম

এই বিশ্বকাপে নজর থাকবে এমন কয়েকজন তারকার ওপর, যারা নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে পুরো টুর্নামেন্টের গল্প বদলে দিতে পারেন।

লিওনেল মেসিআর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে। ৩৮ বছর বয়সে ইন্টার মিয়ামির এই তারকা এখনো দলের প্রাণভোমরা। পাঁচটি বিশ্বকাপে তার গোল সংখ্যা ১৩টি। গ্রুপ ‘জে’-তে শিরোপা রক্ষার লড়াইয়ে নামবেন তিনি।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোপর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও খেলবেন নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। ৪১ বছর বয়সী আল নাসরের এই ফরোয়ার্ড এখনো শারীরিক সক্ষমতায় অনন্য। বিশ্বকাপে তার গোল ৮টি এবং গ্রুপ ‘কে’-তে নেতৃত্ব দেবেন শক্তিশালী পর্তুগাল দলকে।

কিলিয়ান এমবাপেফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে ইতোমধ্যেই দুই বিশ্বকাপে ১২টি গোল করেছেন। ২৭ বছর বয়সী এই তারকা টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে খেলবেন- যা আগে কেবল ব্রাজিল ও জার্মানি করতে পেরেছে। গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়েও তিনি অন্যতম ফেভারিট।

লামিনে ইয়ামালস্পেনের ১৮ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামাল প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলবেন এবার। ইউরো জয়ের পর তিনি এখন স্পেনের নতুন প্রজন্মের পোস্টারবয়। প্রথম বিশ্বকাপ হলেও তার কাছ থেকে গোল্ডেন বল মানের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ২৫ বছর বয়সে দলের প্রধান ভরসা। ২০২২ বিশ্বকাপে তার একটি গোল ছিল। এবার গ্রুপ ‘সি’-তে হাজারো ব্রাজিলিয়ান সমর্থকের সামনে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন।

হ্যারি কেইনইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ধারাবাহিক গোলদাতাদের একজন। ৩২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের বিশ্বকাপ গোল সংখ্যা ৮টি। গ্রুপ ‘এল’-এ শক্তিশালী ইংল্যান্ড দল নিয়ে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছেন।

ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকস্বাগদিতক যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক ২৭ বছর বয়সে ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে আছেন। এসি মিলানে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানোর পর তিনি গ্রুপ ‘ডি’-তে স্বাগতিকদের বড় ভরসা।

আরলিং হালান্ডনরওয়ের আরলিং হালান্ড প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছেন। মাত্র ৪৬ ম্যাচে ৫০ আন্তর্জাতিক গোল করে তিনি দ্রুততম এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। গ্রুপ ‘আই’-তে তাকে ধরা হচ্ছে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে।

অভিজ্ঞতা ও মিডফিল্ডের প্রভাব

শুধু ফরোয়ার্ডদের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। অভিজ্ঞতা ও মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদরিচ এখনো বয়সকে হার মানিয়ে খেলছেন, আর ইংল্যান্ডের জুদ বেলিংহ্যামকে ধরা হচ্ছে দলের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে।

ডার্ক হর্সদের চ্যালেঞ্জ

এই বিশ্বকাপে কিছু ‘ডার্ক হর্স’ দলও বড় চমক দেখাতে পারে। মরক্কোর আক্রমণভাগে আক্রমণ চালাবেন আশরাফ হাকিমি, মিশরের হয়ে ফিরছেন মোহাম্মদ সালাহ, আর স্বাগতিক মেক্সিকোর হয়ে বড় দায়িত্ব থাকবে রাউল হিমেনেজের কাঁধে।

নতুন ফরম্যাট, নতুন চাপ

৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে ম্যাচ সংখ্যা বেশি হওয়ায় স্কোয়াড গভীরতা, খেলোয়াড়দের ফিটনেস এবং রোটেশন বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠবে। একটি খারাপ ম্যাচই কোনো বড় দলকে বিদায় করে দিতে পারে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও নাটকীয় আসর- যেখানে মেসি-রোনালদোর শেষ অধ্যায় আর নতুন তারকাদের উত্থান মিলিয়ে তৈরি হবে এক অনন্য ফুটবল গল্প।

আইএইচএস/