চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অংশের সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি।
সোমবার (৩০ মার্চ) নগরের কপার চিমনি রেস্টুরেন্টে ‘পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে পর্যটন পরিষেবার উন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (এমএএফ) এ সভার আয়োজন করে, সহযোগিতা করে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, উন্নত নিরাপত্তা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে পতেঙ্গা সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা সম্ভব। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি।
তিনি বলেন, সৈকতের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আনসার সদস্য ও বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। অবৈধ দখল উচ্ছেদেও সিটি কর্পোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলা হয়, পতেঙ্গা সৈকতকে পর্যটন অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, অবৈধ স্থাপনা ও যানজটের কারণে অনেক সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, পর্যটকদের জন্য সমন্বিত পার্কিং ব্যবস্থা, আধুনিক টয়লেট ও বিশ্রামাগার, নিরাপত্তা জোরদার, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ জরুরি।
মেয়র বলেন, সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে পরিকল্পিতভাবে দোকানপাট স্থাপন করতে হবে, যাতে দর্শনার্থীদের চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে। তিনি জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), পর্যটন কর্পোরেশন ও টুরিস্ট পুলিশের সমন্বয়ে একটি ‘বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি’ গঠনের উদ্যোগের কথা জানান।
পে-পার্কিং ব্যবস্থা বাতিলের দাবির প্রতিও সমর্থন জানান মেয়র। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে নতুন করে ইজারা না দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।
সভায় টুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক, ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা, সিডিএ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, পর্যটন কর্পোরেশন, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে একটি কার্যকর “বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি” গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের উন্নয়ন পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পরিচালনা ব্যয় যৌথভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন ক্যাব সাধারণ সম্পাদক ইকবাল বাহার সাবেরি, প্রাণ প্রকৃতি সম্পাদক শারুদ নিজাম, পূর্বদেশ-এর নির্বাহী সম্পাদক মোশারফ রাসেল, এনটিভির এনাম হায়দার, ইন্ডিপেন্ডেন্ট এর অনুপম শীল ও বিটিভির আমজাদ হোসেন, এমএএফ সদস্য মাহমুদুর রহমান মান্না, ফারহানা আক্তার জসিম, মো. সাইফুল, পারভিন আক্তার রোজা, অ্যাডভোকেট বিলকিস আরা মিতু, আব্দুল্লাহ আল মামুন, ওসমান গনি, নাসরিন আক্তার। পতেঙ্গা থানা জামায়াত নেতা হামিদ উল্লাহ, ব্যবসায়ী নেতা আইউব আলী, মোরশেল আলম, আবু বক্কর সিদ্দিক, আব্দুল হামিদ।
সভায় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব হবে, যা দেশীয় ও বিদেশি পর্যটকের আগমন বৃদ্ধি করে স্থানীয় অর্থনীতি ও জাতীয় পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
এমআরএএইচ/এমএএইচ/