রাজনীতি

সংবিধান নিয়ে পার্থের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা হাসনাতের

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংবিধান নিয়ে ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্য ও তাতে সরকার দলীয়দের সমর্থনের কঠোর সমালোচনা করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) মূলতবি প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ তার বক্তব্যে যারা সংবিধান ছুঁড়ে ফেলতে চায় তাদের স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে অ্যালাইন করেছেন, ট্যাগ করেছেন। এসময় ট্রেজারি বেঞ্চের (সামনের সারিতে বসা) মন্ত্রীরা টেবিল চাপড়িয়ে সমর্থন দিয়েছেন। কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন লড়াই করে যাওয়া বেগম বলেছিলেন, যেদিন জনতার সরকার প্রতিষ্ঠা হবে, যেদিন এই পার্লামেন্ট জনতার সরকারের কাছে যাবে, সেদিন এই সংবিধানকে ছুড়ে ফেলা হবে।

ট্রেজারি বেঞ্চে থাকা অনেক মন্ত্রী দীর্ঘদিন বেগম জিয়ার সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। সংবিধান ছুড়ে ফেলার বক্তব্যকে স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে মিলিয়ে যে হাততালি দেওয়া হয়েছে, সেটির মধ্য দিয়ে বেগম জিয়াকে অপমান করা হয়েছে কি না- তা তাদের বিবেচনা করা উচিত, যোগ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

আরও পড়ুনসংবিধান কি মনে করিয়ে দেয় এটি একাত্তরের পরাজয়ের দলিল

তিনি পার্থের বক্তব্যের জবাবে বলেন, উনি বলেছেন, ৭২-এর সংবিধানের কিছু বিষয়ে তিনি সম্মান দেন। তার মানে কিছু বিষয়ে দেন না। অর্থাৎ, অভ্যুত্থানের পর সংবিধানের কিছু অংশ তারা মেনেছেন, কিছু অংশ মানেননি। যেটি তাদের পক্ষে গেছে সেটিই মেনেছেন, বিপক্ষে গেলে মানেননি।

হাসনাত আবদুল্লাহ এ ধরনের অবস্থানকে ‘সুবিধাবাদী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আমি কখনো সাংবিধানিক, কখনো অসাংবিধানিক- এটা চলতে পারে না।’

তিনি দাবি করেন, যদি এই সংবিধান মানি, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘৬ আগস্ট ৬৪ বিধি অনুযায়ী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করতে হবে। সেদিন কোন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করা হয়েছিল, এটি জানাতে হবে। অ্যাটর্নি জেনারেল আমাদের জানাবেন, ওই হিয়ারিং হয়েছিল কি না, তিনি উপস্থিত ছিলেন কি না। তখনকার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হক কোথায় ছিলেন, সেই রায়ের কপিও আমরা দেখতে চাই।’

বেগম জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘৬ আগস্ট ছাত্র-জনতার সিদ্ধান্ত ছিল, আর এক মুহূর্ত তাকে কারাগারে রাখা যাবে না। রাষ্ট্রপতির আদেশ ও জনরায়ের ভিত্তিতে তিনি মুক্তি পান। যদি সংবিধানকে বাইবেল বা গসপেল হিসেবে ধরি, তাহলে সেদিন তিনি বের হতে পারতেন না। তিনি বের হয়েছেন অভ্যুত্থানের জনরায়ের ভিত্তিতে।’

এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘আপনারা সংবিধানের যেখান থেকে বেনিফিটেড হন, সেই অংশই মানেন। গ্রামের ভাষায় একটা কথা আছে- গাঙ পার হলে মাঝি কোন দুলাভাই?’

কেএইচ/একিউএফ