আইন-আদালত

হাসিনুর নিশ্চিত করেন, আমি জেআইসিতে বন্দি ছিলাম: জেরায় ইকবাল চৌধুরী

অপহরণের পর বন্দি থাকা অবস্থায় ইকবাল চৌধুরী অনুমান করেছিলেন, তিনি রাজধানীর কাফরুলের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সদর দপ্তরে আছেন। তবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান তাকে নিশ্চিত করেন, বন্দি অবস্থায় তিনি ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) ছিলেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জেআইসিতে গুম করে রাখার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরায় সাক্ষী ইকবাল চৌধুরী এমন কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) তাকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন।

এই মামলার সাক্ষী হিসেবে ইকবাল চৌধুরী দুই দিন জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের ৭ মে তাকে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরায় ইকবাল চৌধুরী বলেন, বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মেসেঞ্জারে সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমানের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। বন্দি অবস্থায় তিনি অনুমান করেছিলেন, তিনি কাফরুলের ডিজিএফআইয়ের সদর দপ্তরে আছেন। হাসিনুর তাকে নিশ্চিত করেন, তিনি জেআইসিতে ছিলেন।

এর আগে ৫ মার্চ জবানবন্দিতে ইকবাল চৌধুরী উল্লেখ করেছিলেন, বন্দি থাকার সময় হাসিনুরকে দেখেছিলেন তিনি। জবানবন্দিতে ইকবাল চৌধুরী বলেছিলেন, ‘দুপুরে গোসলের পর বাথরুম থেকে বের হওয়ার সময় আমার পূর্বপরিচিত লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমানকে দেখতে পাই।’

আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরায় ইকবাল চৌধুরী বলেন, তার ব্যবসা যখন মন্দা যেত, তখন বিষয়টি মাঝেমধ্যে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করতেন। তবে এ কথা সত্য নয় যে তার ব্যবসা মন্দা অবস্থায় তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

জেআইসিতে গুম করে রাখার এই মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে ৩ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। তারা হলেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক তিন পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। তাদের এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

মামলার অন্য ১০ আসামি পলাতক। পলাতক আসামিদের মধ্যে আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।

পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।

এছাড়া পলাতক আছেন আসামি গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক।

এফএইচ/এমআইএইচএস