যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে সম্পৃক্ত না হতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি ইইউর অবস্থানকে পক্ষপাতদুষ্ট ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বলে সমালোচনা করেছেন।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্টোনি কোস্তা –এর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।পেজেশকিয়ান জানান, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগ্রাসী দেশ ও তাদের সমর্থকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর জন্য এটি বন্ধ থাকবে। এ বিষয়ে যেকোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপ ‘গুরুতর ও সুদূরপ্রসারী পরিণতি’ ডেকে আনতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন নেতিবাচক ও অগঠনমূলক অবস্থান থেকে সরে এসে আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে গঠনমূলক নীতি গ্রহণ করে। তিনি আরও বলেন, চলমান এই হামলা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঘোষিত মূল্যবোধের পরিপন্থি।
পেজেশকিয়ান দাবি করেন, কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্ত থাকা অবস্থায়ই হামলার শিকার হয়েছে ইরান, যা প্রমাণ করে যে আগ্রাসী পক্ষ সংলাপের বদলে চাপ প্রয়োগকে বেছে নিয়েছে। তিনি আত্মরক্ষার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, আঞ্চলিক অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পদক্ষেপই দায়ী।
অন্যদিকে, আন্তোনিও কোস্তা সংঘাতের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনকে সমর্থন করেনি এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–এর হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে দেশটির সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়, যার ফলে হতাহতের ঘটনা ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
যৌথ বাহিনীর হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত ১৩৪০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় লেবাননে ১২৭০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘাঁটি ও অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা অভিযান চালিয়েছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
কেএম