দেশজুড়ে

হাওরে পানিতে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন

কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা পানির নিচে ১১০০ হেক্টর জমির ধান পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে কৃষকের ক্ষোভ

চলতি বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জের ছোট-বড় ৯৫টি হাওরের দুই লাখ ২৩ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। যার বাজারমূল্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা। তবে সেই ধান ঘরে তুলতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাওরের ১০ লাখ কৃষক। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

ধারদেনা করে দেখার হাওরে ৩৫ কিয়ার (বিঘা) জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছিলেন কৃষক মুহিবুর রহমান। কিন্তু সেই ধান ঘরে তোলার আগেই কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পানিতে তলিয়ে যায়।

কৃষক মুহিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘এই ধান করতে গিয়ে ছয় লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টিতে হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে আমার সব ধান ডুবে গেছে।’

শুধু দেখার হাওর নয়; কানলার হাওর, করচার হাওর, শান্তিগঞ্জের খাই হাওর, পাখিমারা হাওর, শাল্লার ছায়ার হাওর, জামালগঞ্জের হালির হাওর, পাগনার হাওর, তাহিরপুরের শনির হাওর, মাটিয়ান হাওরসহ জেলার বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে এসব হাওরের বেশিরভাগ কৃষকের কাঁচা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, মাত্র এক হাজার ১০০ হেক্টর জমি ডুবেছে।

আরও পড়ুন: আগাম বন্যার ঝুঁকি, হাওরে বোরো নিয়ে শঙ্কাশেষ হয়নি ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ, ঝুঁকিতে হাওরের বোরো ধান

পাগনার হাওরের কৃষক রাতেশ তালুকদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘সুনামগঞ্জে গত কয়েকদিন ধরেই চরম বৃষ্টি হয়েছে। এতে হাওরের বেশিরভাগ ধান তলিয়ে গেছে। এগুলো পচে যাবে।’

পাখিমারা হাওরের কৃষক ছাত্তার মিয়া বলেন, ‘অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণে কারণে হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। ধান নষ্ট হচ্ছে। অথচ কৃষি বিভাগের কোনো মাথাব্যথা নেই।’ একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাহিরপুরের কৃষক আবু বক্কর। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকার কোটি কোটি টাকা দিয়ে ধান রক্ষায় ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ করে। অথচ হাওরের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা কেন করছে না? জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে মাটিয়ান হাওর ও গুরমারের বেশিরভাগ ধান নষ্ট হতে শুরু করেছে। কৃষকের খারাপ সময়ে যদি কৃষি বিভাগ কাজে না আসে, তাহলে এই প্রতিষ্ঠানের কাজটা কী?’

জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, ‘অন্য বছর থেকে এবছর কয়েকদিনেই ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি সিলেটে বৃষ্টি হচ্ছে, নদীর পানিও বাড়ছে। এরইমধ্যে হাওরে যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, তাতে ১১০০ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে।’

কিন্তু মাঠ পর্যায়ে আরও বেশি ধান জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের উপজেলা থেকে যে তথ্য দেয়, আমরা সে তথ্য অনুযায়ী কাজ করি। তবে কোনোও কৃষকের ধান ক্ষতি হলে আমাদের জানাতে হবে।’

হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে বলে জানান সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার।

জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি সভা করা হয়েছে। কৃষকের ধান রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

এসআর/এএসএম