মাদারীপুরে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে জেলায় অনেক শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে ১৫ শিশু মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে ১১ শিশু ভর্তি রয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়- দিন দিন হামে আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। এছাড়াও সাধারণ জ্বর ঠান্ডা নিয়ে ১০৪ শিশু ভর্তি রয়েছে।
জানা যায়, মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে গত এক সপ্তাহে ১৫ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন সুস্থ হয়ে ফিরে গেছে। দুপুর পর্যন্ত ১১ শিশু ভর্তি রয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার কারণে হাসপাতালের ৫ম তলার শিশু ওয়ার্ডের পাশে আলাদা তিনটি কক্ষে হাম আইসোলেশন কর্ণারে ১২ সিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে সিটের সংখ্যাও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর এলাকার সানজিদা বেগম ৯ মাসের শিশু সন্তান আয়ানকে গত ২৭ মার্চ মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের ভর্তি করেন। শিশু আয়ান জ্বর ও ঠান্ডায় ভুগছিলেন। আয়ানের মা সানজিদা বেগম বলেন, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। তাই কি করবো একসঙ্গে দুই শিশুকে থাকতে হচ্ছে।
সদর উপজেলার মোস্তফাপুর থেকে আসা সুবর্ণা বেগম বলেন, আমার দুই মাস বয়সি মেয়ে তাইমার জ্বর, ঠান্ডা ও কাশি। ২৯ মার্চ ভর্তি করেছি। কিন্তু সিট কম থাকায় এক সঙ্গে দুই শিশুকে নিয়ে থাকতে হচ্ছে।
চরমুগরিয়া এলাকার বাসিন্দা সোহেল ঢালী ও শাহিনুর বেগম দম্পতির ৯ মাস বয়সি মেয়ে মুনতাহারা হাম আক্রান্ত হয়ে গত চার দিন আগে ভর্তি হয়েছে। আগের চেয়ে তার অবস্থা অনেকটাই ভালো।
শাহিনুর বেগম বলেন, মেয়ের প্রথমে জ্বর, পরে সারা শরীরে লালচে ভাব দেখা দেয়। অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে আসি। পরীক্ষা করে জানতে পারি মেয়ের হাম হয়েছে। তবে আগের চেয়ে এখন অনেকটাই ভালো।
মহিষেরচর এলাকার শাহিন বেপারী ও মিনারা বেগেমের ছয় মাস বয়সি জায়েদও হাম আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। অসুস্থ জায়েদের দাদী তানজিলা বেগম বলেন, এখনও ওর হামের টিকা দেওয়া হয়নি। শুনেছি ৯ মাস হলে টিকা দেওয়া হয়। তাই নাতি একটু বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তির পর এখন আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থ।
চরগোবিন্দপুর এলাকার মিজানুর রহমান ও মিনু বেগমের তিন মাস বয়সি শিশু আরাফ হাম আক্রান্ত হয়ে তিন দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে মাদারীপুরে ভর্তি হওয়া বেশির ভাগ শিশুরই বয়স এক বছরের নিচে। অনেকেই এখন পর্যন্ত টিকা দেয়নি।
রাস্তি ইউনিয়নের রাস্তি গ্রামের সুমন ও রত্না বেগমের ৫ মাস বয়সি মেয়ে রাবেয়া। গত ২৬ মার্চ হাম আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। সুস্থ হওয়ায় দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রত্না বেগম বলেন, মেয়ে সুস্থ হয়েছে। তাই বাড়িতে যাচ্ছি।
মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ (কনসালটেন্ট) ডা. জহিরুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, বুধবার হাম আক্রান্ত ১১ শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। হাম আক্রান্তদের জন্য আলাদাভাবে আইসোলেশন কর্নারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে ১২ সিট রাখা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লে সিটও বাড়ানো হবে। হাম আক্রান্ত হলে ভয়ের কারণ নেই। সঠিক সময়ে চিকিৎসা হলে রোগী সুস্থ হয়ে যায়। ভয় না পেয়ে সচেতন হতে হবে।
আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এএইচ/এএসএম