রাজনীতি

দাবি আদায়ে আন্দোলনের আভাস জামায়াত আমিরের

জুলাই সনদ আদেশ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের দাবি আদায়ে রাজপথে আন্দোলনের আভাস দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে বাইরে এসে সাংবাদিকদের তিনি এমন আভাস দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যেহেতু হাউজের ভেতরে জনগণের এই অভিপ্রায়ের বিষয়টা সেভাবে সম্মানিত এবং গৃহীত হলো না, আমাদের জন্য এখন পথ একটাই। যে জনগণ আমাদের এই রায় দিয়েছিল আমরা এখন সেই জনগণের কাছেই ফিরে যাবো। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই গণভোটের যে দাবি, এই দাবি কীভাবে আদায় করা যায় সেই কার্যক্রম আমরা গ্রহণ করবো।

তিনি বলেন, গতদিন আমরা অনুরোধ করেছিলাম, যে আসেন আমরা জনগণের চূড়ান্ত রায়টাকে সম্মান করি, তাহলে এই মহান সংসদ আরও বেশি সম্মানিত হবে। কিন্তু এ আহ্বানের প্রতি তারা সম্মান প্রদর্শন করেননি। তারা (সরকার) ব্যর্থ হয়েছেন।

সংবিধানের দোহাই দিয়ে বিগত সাড়ে ১৫ বছরের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতির জন্ম হয়েছে বলে মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এজন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছিল সাংবিধানিক বা সংবিধানের যে কাঠামো এই ফ্যাসিবাদ সমর্থন দিয়েছে, সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে ব্যবহার করার, তার একটা বড় ধরনের সংস্কার সাধন করার।

নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি রাখলেও পরে তারা নমনীয় হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, আমরা চাইলাম যে গণভোটটা হোক এবং এখানে লক্ষণীয় বিষয় সরকারি দলেরই কনসেন্সাস কমিশনে যিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনিই কিন্তু গণভোটের প্রস্তাবটা উত্থাপন করেছেন সংস্কার কমিশনে, বাকি সবাই আমরা সমর্থন করেছি।

জামায়াত আমির আরও বলেন, আমরা খুবই বিস্মিত, আহত, মর্মাহত। এর আগে তিনটা গণভোট বাংলাদেশে হয়েছে। কোনো গণভোট এইভাবে শেষ হয়ে যায়নি। তিনটার তিনটিতেই জনগণের দেওয়া রায় অনুযায়ী জনগণ পরবর্তী সুযোগ পেয়েছে। এই প্রথম যেটাতে আমরা সবাই সরকারি দল, বিরোধীদল সবাই আমরা একমত ছিলাম। সবাই চাইলাম, সবাই এর পক্ষে ভোট চাইলাম। এখানে এসে এটাকে অগ্রাহ্য করা হলো, অমান্য করা হলো এবং এটাকে শেষ করে দেওয়া হলো।

তিনি বলেন, কার্যত জনগণের চূড়ান্ত অভিপ্রায় যেটাকে সংবিধানের চূড়ান্ত জায়গায় স্থান দেওয়া হয়েছে সেইটাকেই কিন্তু লঙ্ঘন করা হলো। আমরা এই অবস্থা মেনে নিইনি। আমরা জনগণের অভিপ্রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ওয়াকআউট করেছি। আমরা চেয়েছিলাম আন্তরিকভাবে এখানেই হাউজের ভেতরেই তার সমাধান হোক। হাউজের ভেতরে সমাধান হলে জনগণ আনন্দিত হতো।

আন্দোলনে নামার আভাস দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, আপনারা জানেন, ১১টি দল আমরা নির্বাচনের আগেই বিভিন্ন দাবিতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। আমাদের দুইটা মেজর দাবি ছিল, একটা হলো সুশাসন-ন্যায়বিচার, আরেকটা ছিল দুর্নীতি-দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। তা আমরা এখন জনগণের দাবি জনগণের কাছেই নিয়ে যাবো। যেহেতু এখানে আমরা পারলাম না আদায় করতে। আমরা ইনশাল্লাহ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।

জামায়াত সংসদে থাকবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সংসদে থাকবো না এটা বলিনি। আমরা সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেছি, আমরা সংসদকে গিভ আপ করিনি। আমরা তো সংসদের অংশ। আমরা তো সংসদ সদস্য, জাতির দেওয়া এই দায়িত্ব আমাদের পালন করতে হবে। আমরা তো জাতির দেওয়া এই দায়িত্বকে আমরা অবহেলা করতে পারি না।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে আন্দোলন ছাড়া আমাদের করার আর পথ কী আছে। আন্দোলন আমরা করবো, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই করবো। তবে আমি বলেছি যে, আমাদের ১১টি দল, আমরা দ্রুতই একত্রে বসছি এবং বসে আমরা আমাদের সিদ্ধান্তগুলো নেবো।

আরএএস/ইএ