ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনটি আসনে ভোটের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আরও তিন প্রার্থীর করা পৃথক নির্বাচনি আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর একক অবকাশকালীন বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আবেদনকারী তিন প্রার্থী হলেন বাগেরহাট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, দিনাজপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাইনুল আলম ও ঠাকুরগাঁও-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল হাকিম।
আদালতে শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনিজরুজ্জামান আসাদ, আইনজীবী গাজী কামরুল ইসলাম ও সাকিব মাহবুব শুনানিতে ছিলেন। জামায়াতের দুই প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এম কে শাহনেওয়াজ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।
বাগেরহাট-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শেখ মনজুরুল হক ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন ৬৬ হাজার ৪০৯ ভোট পান।
বাগেরহাট-২ আসনে ভোটে অনিয়ম, অসামঞ্জস্যতা, ক্রটিসহ বেশ কিছু অভিযোগ নিয়ে নির্বাচনি আবেদনটি করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনের আইনজীবী সাকিব মাহবুব। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে আসা বেশ কিছু পোলিং শিটে কারও নাম আছে, কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর নেই।’
আবার অনেকগুলোতে নাম আংশিক আছে, বাকিটা নেই। এ রকমও হয়েছে, পোলিং এজেন্ট অনেককে দুপুরের মধ্যে বের করে দেওয়া হয়েছে। আসনটিতে নির্বাচনের ফলাফল বাতিল ও আবার নির্বাচন চাওয়া হয়েছে আবেদনে। আদালত আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন। ব্যালট বক্সসহ নির্বাচনি সরঞ্জামাদি সংরক্ষণ করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুনানির জন্য আদালত আগামী ২১ মে দিন নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
এদিকে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. আবদুস সালাম ১ লাখ ২১ হাজার ১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী মো. আবদুল হাকিম ১ লাখ ১৫ হাজার ৭০৭ ভোট পান। আর দিনাজপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ১ লাখ ৩৯ হাজার ২০৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আসনটিতে জামায়াতের মো. মাইনুল আলম ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬১৮ ভোট পান।
আবেদনকারী জামায়াতের দুই প্রার্থী মাইনুল আলম ও আবদুল হাকিমের আইনজীবী এম কে শাহনেওয়াজ বলেন, আসন দুটিতে (দিনাজপুর-৩ ও ঠাকুরগাঁও-২) ভোট গণনায় অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচনি আবেদন দুটি করা হয়। পৃথক আবেদনে ফলাফল বাতিল করে আবার ভোট গণনা করে আবেদনকারীদের জয়ী ঘোষণার প্রার্থনা রয়েছে। হাইকোর্ট আবেদন দুটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন। আবেদন দুটি শুনানির জন্য আগামী ১০ জুন দিন রাখা হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তিনি হাইকোর্টে নির্বাচনি আবেদন করতে পারেন। নির্বাচনসংক্রান্ত আবেদনপত্র গ্রহণ ও শুনানির জন্য গত ১৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে একক বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি।
২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত ৪৫ প্রার্থীর পৃথক ৪৫টি নির্বাচনি আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্টের ওই বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি ১৫ মার্চ শুরু হয়েছে। এসময়ে দেওয়ানি বিষয়াদির সঙ্গে নির্বাচনি আবেদনপত্র শুনানি নিষ্পত্তির জন্য এই বেঞ্চকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই বেঞ্চ ১৬ মার্চ দুটি ও আজ তিনটি নির্বাচনি আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেন।
এফএইচ/এমআইএইচএস/