আইন-আদালত

পরিবারের কাছে ফেরার আকুতি বরখাস্ত পুলিশ কনস্টেবল শোয়াইবুরের

রাজধানীর রামপুরা থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর শুনানিতে আদালতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বরখাস্ত পুলিশ কনস্টেবল শোয়াইবুর রহমান জয়। তিনি নিজের জন্য ‘সাধারণ ক্ষমা’ প্রার্থনা করে পরিবারের কাছে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন।

বুধবার (১ এপ্রিল) আসামিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে এমন মুহূর্তের অবতারণা ঘটে।

আদালতে নেওয়ার পথে হাজতখানা থেকে এজলাসে ওঠার সময় সাংবাদিকদের সামনে শোয়াইবুর রহমান জয় বলেন, চাকরিজীবনে তিনি এমন কোনো কাজ করেননি যার জন্য তাকে এ ধরনের মামলার মুখোমুখি হতে হবে। তিনি পুলিশ বিভাগের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, তার একটি ছোট সন্তান রয়েছে। তিনি সন্তানের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ চান।

এসময় তিনি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিজের জন্য ‘সাধারণ ক্ষমা’ প্রার্থনা করেন। শোয়াইবুরের দাবি, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা বিষয়টি অবগত না থাকলে কেন তাকে একাধিক মামলায় জড়ানো হচ্ছে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

মামলার শুনানিতে রামপুরা থানার এসআই মোহাম্মদ গোলাপ উদ্দিন মাহমুদ আসামিকে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরনী মীর আবেদন মঞ্জুর করে তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোমিনুল ইসলাম।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর রামপুরা এলাকায় বিটিভি ভবনের পাশে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় আবু নোমান নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। পরে সুস্থ হয়ে তিনি রামপুরা থানায় হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসেন শোয়াইবুর রহমান জয়। পরবর্তীতে একই বছরের সেপ্টেম্বরে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং তখন থেকেই তিনি কারাগারে।

এমডিএএ/এমকেআর