মতামত

আরব সংকটে কাঁপছে বিশ্ব ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে যে নজিরবিহীন অস্থিরতা চলছে, তা কেবল সামরিক সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে, যার চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে। বিশেষ করে আরব বিশ্বের প্রাক্কলিত ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমষ্টিগত ক্ষতি বাংলাদেশের অর্থনীতির তিনটি প্রধান স্তম্ভ—রেমিট্যান্স, জ্বালানি এবং আমদানি ব্যয়—কে সরাসরি হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

১. রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধাক্কা

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণশক্তি হলো প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স, যার প্রায় ৬৬–৭০% আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

কর্মসংস্থান হ্রাস: আরব দেশগুলোর জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমলে নির্মাণ ও সেবা খাতের মতো বড় প্রকল্পগুলো স্থবির হয়ে পড়ে, যার ফলে কয়েক লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। আয় সংকোচন: প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩–৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

২. জ্বালানি নিরাপত্তা ও আকাশচুম্বী আমদানি বিল

বাংলাদেশ তার জ্বালানি তেলের সিংহভাগ এবং এলএনজি (LNG) আরব দেশগুলো থেকে আমদানি করে।

মূল্যবৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০ ডলার বাড়লে বাংলাদেশের বার্ষিক আমদানি খরচ প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পায়। বিদ্যুৎ ও কৃষি সংকট: জ্বালানির দাম বাড়লে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ এবং সেচকাজে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম বেড়ে যায়, যা সরাসরি খাদ্য নিরাপত্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

৩. পণ্য পরিবহন ও লজিস্টিকস ব্যয়

লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার ফলে পণ্যবাহী জাহাজের রুট পরিবর্তন এবং বিমা প্রিমিয়াম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

এর ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বিলম্ব ঘটছে এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা হারাচ্ছে।

৪. বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও মুদ্রাস্ফীতি

জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয় এবং রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার সম্মিলিত ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হবে। এর ফলে টাকার মান কমে গিয়ে স্থানীয় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

দুই

আরব বিশ্বের এই ২০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি কেবল একটি সংখ্যা নয়; এটি বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। এই সংকট মোকাবিলায় আমাদের জ্বালানি বহুমুখীকরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নতুন শ্রমবাজার খোঁজার ওপর এখন থেকেই গুরুত্ব দিতে হবে।

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এখনো মুখস্থনির্ভর। বিশ্ববাজারে এখন চাহিদা ডেটা সায়েন্স, এআই, সেমিকন্ডাক্টর এবং রোবোটিক্সের। আরব দেশগুলো যখন প্রযুক্তিনির্ভর 'স্মার্ট সিটি' তৈরি করছে, তখন সাধারণ লেবার পাঠিয়ে আমরা বেশি রেমিট্যান্স আশা করতে পারি না। তাই উচ্চশিক্ষায় কারিগরি জ্ঞান বাধ্যতামূলক করতে হবে। আমাদের অনেক স্নাতক ডিগ্রিধারী যুবক বিদেশে গিয়ে সাধারণ শ্রমিকের কাজ করেন কারণ তাদের কাছে কোনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত 'স্কিল সার্টিফিকেট' নেই। জাপানি, জার্মান বা কোরিয়ান ভাষার ওপর জোর দিলে আমরা সেসব দেশে দক্ষ পেশাজীবী (যেমন: নার্স, ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিশিয়ান) পাঠাতে পারব, যারা একজন সাধারণ শ্রমিকের চেয়ে ৪-৫ গুণ বেশি রেমিট্যান্স পাঠাবে।

আরব বিশ্বের এই সম্ভাব্য ২০০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি এবং এর ফলে সৃষ্ট অস্থিরতা মোকাবিলায় বাংলাদেশের জন্য বিকল্প অর্থনৈতিক কৌশল এবং নতুন শ্রমবাজার খোঁজা এখন সময়ের দাবি।

১. নতুন ও অপ্রচলিত শ্রমবাজারের সন্ধান

মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমাতে বাংলাদেশ নিচের অঞ্চলগুলোতে নজর দিতে পারে:

পূর্ব ইউরোপ: পোল্যান্ড, রোমানিয়া, হাঙ্গেরি এবং মলদোভায় বর্তমানে নির্মাণ, কৃষি এবং লজিস্টিক খাতে প্রচুর শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে। পূর্ব এশিয়া: জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘প্রযুক্তিগত ইন্টার্ন’ এবং দক্ষ শ্রমিকের কোটা বাড়ানো যেতে পারে। বিশেষ করে জাপানের কেয়ারগিভার ও অটোমোবাইল সেক্টরে বাংলাদেশের বড় সুযোগ রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া: মালয়েশিয়ার পাশাপাশি কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের উদীয়মান শিল্পখাতে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর চুক্তি করা প্রয়োজন।

২. শ্রমশক্তির গুণগত পরিবর্তন (Skill Migration)

কেবল সাধারণ শ্রমিক না পাঠিয়ে ‘হাই-ভ্যালু’ দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিনিয়োগ করতে হবে:

আইটি ফ্রিল্যান্সিং, নার্সিং, ইলেকট্রিশিয়ান এবং অটোমোবাইল মেকানিকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করা। এতে কম মানুষ পাঠিয়েও দ্বিগুণ রেমিট্যান্স আয় করা সম্ভব।

৩. জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিকল্প উৎস

আরব দেশগুলোর অস্থিরতা মানেই তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা। এর সমাধানে:

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি: কাতার বা সৌদি আরবের পাশাপাশি রাশিয়া, নাইজেরিয়া বা আজারবাইজানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে জ্বালানি আমদানির বিকল্প উৎস তৈরি রাখা। নবায়নযোগ্য জ্বালানি: দেশের অভ্যন্তরে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়ানো, যাতে আমদানিনির্ভরতা কমে।

৪. রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণ

আমাদের তৈরি পোশাকের বড় অংশ ইউরোপ-আমেরিকায় গেলেও কাঁচামাল ও লজিস্টিকসের জন্য আমরা মধ্যপ্রাচ্যের রুটের ওপর নির্ভরশীল।

আফ্রিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে নতুন বাজার খোঁজা। ব্লু ইকোনমি বা সমুদ্রসম্পদ আহরণে জোর দেওয়া, যাতে বৈদেশিক মুদ্রার নতুন উৎস তৈরি হয়।

৫. খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি কূটনীতি

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে সার ও জ্বালানির দাম বাড়লে দেশে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ে। এটি সামলাতে:

আফ্রিকার দেশগুলোতে (যেমন সুদান বা উগান্ডা) ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিং’ বা লিজ নিয়ে চাষাবাদের সম্ভাবনা যাচাই করা।

তিন.

আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে, তা দূর না করলে মধ্যপ্রাচ্যের ২০০ বিলিয়ন ডলারের সংকটের নেতিবাচক প্রভাব ঠেকানো অসম্ভব। শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন কেন জরুরি, তা নিচের পয়েন্টগুলোতে স্পষ্ট হয়:

১. সনাতন পাঠ্যক্রম বনাম গ্লোবাল ডিমান্ড

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এখনো মুখস্থনির্ভর। অন্যদিকে, বিশ্ববাজারে এখন চাহিদা ডেটা সায়েন্স, এআই (AI), সেমিকন্ডাক্টর এবং রোবোটিক্সের। আরব দেশগুলো যখন প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট সিটি’ তৈরি করছে, তখন সাধারণ লেবার পাঠিয়ে আমরা বেশি রেমিট্যান্স আশা করতে পারি না। তাই উচ্চশিক্ষায় কারিগরি জ্ঞান বাধ্যতামূলক করতে হবে।

২. আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন ও ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং

আমাদের অনেক স্নাতক ডিগ্রিধারী যুবক বিদেশে গিয়ে সাধারণ শ্রমিকের কাজ করেন, কারণ তাদের কাছে কোনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘স্কিল সার্টিফিকেট’ নেই। জাপানি, জার্মান বা কোরিয়ান ভাষার ওপর জোর দিলে আমরা সেসব দেশে দক্ষ পেশাজীবী (যেমন: নার্স, ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিশিয়ান) পাঠাতে পারব, যারা একজন সাধারণ শ্রমিকের চেয়ে ৪–৫ গুণ বেশি রেমিট্যান্স পাঠাবে।

৩. কারিগরি শিক্ষার (Vocational Education) সামাজিক মর্যাদা

বাংলাদেশে এখনো সাধারণ বিএ/এমএ ডিগ্রিকে কারিগরি শিক্ষার চেয়ে বড় করে দেখা হয়। এই মানসিকতা বদলাতে হবে। ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল এবং কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্টের মতো বিষয়ে ডিপ্লোমাধারীদের জন্য উচ্চবেতনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

৪. ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশন

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কী পড়ানো হবে, তা ঠিক করা উচিত বর্তমান বাজারের চাহিদা অনুযায়ী। মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপের কোম্পানিগুলোর কী ধরনের জনশক্তি প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী পাঠ্যসূচি সাজাতে হবে।

সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা তখনই সফল হবে, যখন আমাদের হাতে ‘বিক্রয়যোগ্য দক্ষতা’ (Marketable Skills) সম্পন্ন তরুণ প্রজন্ম থাকবে। শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন হলো ‘ভিত্তি’, আর কূটনীতি হলো সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে সুযোগ আদায় করা।

চার.

পলিটেকনিক এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমূল সংস্কার ছাড়া আরব বিশ্বের মতো অস্থিতিশীল বাজার বা ইউরোপের উন্নত বাজারে টেকসই অবস্থান তৈরি করা সম্ভব নয়। বর্তমানে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা বেশ কিছু কাঠামোগত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা নিরসনে ২০২৫–২৬ অর্থবছর থেকে সরকার ও নীতিনির্ধারকদের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট সংস্কার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

১. কারিগরি শিক্ষার বর্তমান সংকট ও সংস্কারের ক্ষেত্রসমূহ

গবেষণা ও সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের অধিকাংশ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট বর্তমানে নিম্নোক্ত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন:

সেকেলে ল্যাব ও যন্ত্রপাতি: অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো ২০–৩০ বছর আগের যন্ত্রপাতি দিয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়, যা আধুনিক স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি বা বিদেশের উন্নত কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শিল্পের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা (Skill Mismatch): বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রিগুলো কী ধরনের দক্ষতা চাচ্ছে, তার সঙ্গে পাঠ্যক্রমের বড় ধরনের গ্যাপ রয়েছে। ফলে ডিপ্লোমা শেষ করেও অনেক শিক্ষার্থী বেকার থাকছেন অথবা অদক্ষ শ্রমিক হিসেবে বিদেশে যাচ্ছেন। শিক্ষক সংকট ও নিম্নমান: প্রায় ৪৩% শিক্ষকের পর্যাপ্ত উচ্চতর ডিগ্রি নেই এবং অনেক ক্ষেত্রে সঠিক বিষয়ে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের অভাব রয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে অনেক প্রতিষ্ঠান কেবল ‘সার্টিফিকেট বিক্রির’ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

২. ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সম্ভাব্য ও চলমান সংস্কার উদ্যোগ

সরকার এই সংকট উত্তরণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:

ভর্তি পরীক্ষা পুনর্বহাল: গুণগত মান নিশ্চিত করতে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি পলিটেকনিকগুলোতে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা মাঝপথে বাদ দিয়ে জিপিএর ভিত্তিতে ভর্তি করা হতো। বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি: ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য প্রায় ১২,৬৭৮ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। আধুনিকায়ন প্রকল্প (ASSET): বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘Accelerating and Strengthening Skills for Economic Transformation (ASSET)’ প্রকল্পের আওতায় ল্যাবরেটরি আধুনিকায়ন এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের কাজ চলছে। নতুন প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি: রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো আধুনিক বিষয়গুলোকে কারিগরি শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

৩. জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA)-এর ভূমিকা

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA) বর্তমানে একটি কৌশলগত রোডম্যাপ তৈরি করেছে, যার মূল লক্ষ্য হলো:

আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করা, যাতে প্রবাসে বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। ‘ন্যাশনাল স্কিল কম্পিটিশন’-এর মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক দক্ষতা তৈরি করা এবং বিশ্বমঞ্চে (যেমন: WorldSkills Competition) বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।

সংস্কার কেবল ভবন নির্মাণে নয়, বরং পাঠ্যক্রমের আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং দক্ষ শিক্ষক নিয়োগে হতে হবে। আরব বিশ্বের ২০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি থেকে নিজেদের বাঁচাতে হলে আমাদের সাধারণ শ্রমিকের বদলে ‘সার্টিফায়েড টেকনিশিয়ান’ তৈরিতেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ। drharun.press@gmail.com

এইচআর/জেআইএম