পেঁয়াজ দৈনন্দিন জীবনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। আনন্দের সংবাদ হলো, এবার মাদারীপুর জেলায় পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। চলতি মৌসুমে মাদারীপুরের ৫টি উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পেঁয়াজ কন্দ, হালি পেঁয়াজ ও পেঁয়াজের বীজ চাষ হয়েছে। এতে খুশি এলাকার কৃষকেরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর মাদারীপুরের ৫টি উপজেলায় কন্দ পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে। তবে কৃষকদের আগ্রহ আর পরিশ্রমে সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার চাষ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে। হালি পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৭৩ হেক্টর জমিতে, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯৪ হেক্টর জমিতে। এ ছাড়া পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনে ৪২ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বাস্তবে চাষ হয়েছে প্রায় ৭৪ হেক্টর জমিতে। তবে জেলার মধ্যে কালকিনি, ডাসার ও শিবচর উপজেলায় পেঁয়াজের ভালো ফলন হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকার মাঠজুড়ে সারি সারি কন্দ পেঁয়াজ, কোথাও আবার সদ্য তোলা কন্দ পেঁয়াজ, আবার কোথাও বাতাসে দুলছে বীজের ফুল। মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজের সুন্দর দৃশ্য চোখে পড়ছে। তবে এরই মধ্যে পেঁয়াজের বড় একটি অংশ বাজারজাত করা হয়েছে। ভালো দাম পাওয়ায় খুশি কৃষকেরা। তাই মাদারীপুর জেলায় দিন দিন পেঁয়াজ চাষের আগ্রহ বাড়ছে।
আরও পড়ুনমিরসরাইয়ে সরিষা ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষকরা, আবাদ বেড়েছে ৬২৫ হেক্টর কৃষক যা বলছেনমাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ রমজানপুর গ্রামের পেঁয়াজ চাষি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজের বীজের দাম অনেক বেশি। পেঁয়াজের বীজে আমাদের লাভও বেশি। তাই আমরা একে ভালোবেসে ‘কালোসোনা’ বলে থাকি। এক কেজি পেঁয়াজের বীজ বিক্রি হয় প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। তবে কখনো এর চেয়ে বেশি দামেও বিক্রি হয়। তাই এখানকার কৃষকের এটি চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এতে আমরাও খুশি।’
মাদারীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. রহিমা খাতুন বলেন, ‘পেঁয়াজ চাষে প্রণোদনাসহ কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। পেঁয়াজ চাষিদের সময়মতো বীজ ও সার দিয়ে সহযোগিতা করার পাশাপাশি তাদের সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাই এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পেঁয়াজের ফলন হয়েছে। এ ছাড়া জেলায় অনেকেরই এখন পেঁয়াজ চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।’
আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এসইউ