চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি দেবকে (২৫) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৭)।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) নগরের কোতোয়ালি থানার বলুয়ার দিঘী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি কোতোয়ালি এলাকার সেবক কলোনির বাসিন্দা।
র্যাব-৭ জানায়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত সহিংসতায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় ৩১ জনকে আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১৫ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত পরিচালনা করে র্যাব। গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, মামলার পলাতক আসামি দেব নগরের কোতোয়ালি এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় দাসকে রাষ্ট্রদোহের অভিযোগে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং ২৬ নভেম্বর চিন্ময় দাসকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এসময় চিন্ময় দাসের অনুসারীরা তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে এবং কারাগারে নিয়ে যেতে বাধা প্রধান করে। পরর্বতীতে আদালত চত্বরে বিক্ষোভকারীরা বেশ কয়েকটি গাড়ি, মোটরসাইকেল ও কোর্ট বিল্ডিং কমপ্লেক্সের নিচতলায় একটি চেম্বার ভাঙচুর করে।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে আদালতের বিপরীতে দিকে রঙ্গম কনভেনশন সেন্টার এলাকায় থাকা আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী চন্দন, রুমিত দাশ, সুমিত দাশ, গগন দাশ, নয়ন দাশ, বিশাল দাশ, আমান দাশ, সুকান্ত, শ্রী গনেশ এবং তার অন্যান্য সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি ২৭ ও ২৮ নভেম্বর কর্মবিরতি পালন করে। এ ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হলে ব্যাপক আলোচিত হয়।
এমআরএএইচ/এমএএইচ/