লাইফস্টাইল

ফ্রিজে দুধ জ্বাল দিয়ে নাকি প্যাকেটসহ রাখলে ভালো থাকবে?

দুধ আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যের একটি অপরিহার্য অংশ। চা-কফি থেকে শুরু করে রস, কেক প্রায় সব রান্নায় দুধ ব্যবহৃত হয়। তাই দুধকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুলভাবে রাখলে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও সৃষ্টি করতে পারে। সাধারণভাবে দুইটি পদ্ধতি প্রচলিতরয়েছে একটি হলো দুধ জ্বাল দেওয়া বা পাস্তুরাইজ করা, আর অন্যটি হলো প্যাকেটসহ ফ্রিজে রাখা।

আসুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে সংরক্ষণ করবেন-

দুধ জ্বাল দেওয়া বা পাস্তুরাইজেশন

জ্বাল দেওয়া বা পাস্তুরাইজ করা দুধ মূলত উচ্চ তাপে গরম করা হয়, যাতে ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। এতে দুধ দীর্ঘক্ষণ নিরাপদ থাকে এবং ঘরে সংরক্ষণ করা যায়। জ্বাল দেওয়া দুধ সাধারণত এক বা দুই দিন বাইরে রাখা যায়। তবে এর সীমাবদ্ধতা রয়েছে। খুব বেশি গরম করলে দুধের স্বাদ পরিবর্তন হতে পারে, এবং কিছু ভিটামিন বা খনিজ উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জ্বাল দেওয়া দুধ সংরক্ষণের জন্য ঠান্ডা হওয়ার আগে অবশ্যই ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। ঝামেলা কমাতে, শুধুমাত্র প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাণ গরম করা সবচেয়ে ভালো। যদি দীর্ঘসময় সংরক্ষণ করতে চান, জ্বাল দেওয়া দুধ ফ্রিজে রাখা সবচেয়ে কার্যকর।

প্যাকেটসহ ফ্রিজে রাখা

দুধ সংরক্ষণের আরেকটি পদ্ধতি হলো মূল প্যাকেট বা বোতলটি খুলে না রেখে সরাসরি ফ্রিজে রাখা। এই পদ্ধতিতে দুধের স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণ প্রায় অপরিবর্তিত থাকে। ফ্রিজের নিচের দিকে বা কেন্দ্রীয় শেলফে রাখলে এটি দীর্ঘ সময় সতেজ থাকে। খোলা প্যাকেট দুধ অবশ্যই ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। ফ্রিজের দরজা এড়িয়ে কেন্দ্রীয় শেলফে রাখা ভালো, কারণ দরজা বারবার খোলা হলে তাপমাত্রা ওঠানামা করে। খোলা দুধ সাধারণত তিন থেকে চার দিন পর্যন্ত ফ্রিজে রাখা যায়। তবে এর বেশি রাখা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

কোন পদ্ধতি কখন ব্যবহার করবেন

যদি দুধ এক বা দুই দিনের মধ্যে ব্যবহার করতে হয়, তাহলে প্যাকেটসহ ফ্রিজে রাখা সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর। অন্যদিকে, যদি দুধ কয়েকদিন ব্যবহার না হয়, জ্বাল দেওয়া বা পাস্তুরাইজ করা দুধ ফ্রিজে রাখাই উপযুক্ত। এতে ব্যাকটেরিয়ার সম্ভাবনা কম থাকে এবং দুধ দীর্ঘদিন সতেজ থাকে।

সংরক্ষণের সময় অন্যান্য বিষয়

দুধ কখনো রোদ বা উষ্ণ স্থানে রাখার কথা নয়, কারণ এতে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফ্রিজে রাখা দুধের পাশে কোনো খাবারের গন্ধ সংরক্ষিত হলে দুধের স্বাদ প্রভাবিত হতে পারে। তাই আলাদা রাখা ভালো। ব্যবহার করার আগে দুধ গরম করার পর ভালোভাবে নাড়তে হবে।

 দুধ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতিই নিরাপদ, তবে ব্যবহারের সময় ও দৈনন্দিন প্রয়োজন অনুযায়ী পদ্ধতি বেছে নেওয়া উচিত। ছোট সময়ের ব্যবহারের জন্য প্যাকেটসহ ফ্রিজে রাখা ভালো, আর দীর্ঘ সময়ের সংরক্ষণের জন্য জ্বাল দেওয়া দুধ ফ্রিজে রাখাই ভালো।

সূত্র: রিয়েল সিম্পল, মায়ো ক্লিনিক, ইন্ডিয়া টুডে

আরও পড়ুন: ফ্রোজেন রুটি-পরোটা স্বাস্থ্যের জন্য কেমন স্বাস্থ্যকর উপায় খাবার সংরক্ষণ করবেন যেভাবে 

এসএকেওয়াই